
রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব খেলোয়াড় তালিকা দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস, বেলিংহাম, ভালভার্দে, একেকজন একেক দেশের সেরা। কিন্তু এত তারকা এক দলে থাকলেই কি সব ঠিক হয়ে যায়? নতুন কোচ জোসে মরিনহোকে এবার ঠিক এই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে হচ্ছে।
বাংলাদেশে রিয়ালের ভক্ত তো কম নয়। রাত জেগে লা লিগা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দেখা, সাদা জার্সির জন্য গলা ফাটানো, এসব তো নিয়মিত ব্যাপার। এবার মরিনহোর হাতে দলটা কেমন দাঁড়ায়, সেটা নিয়েই সবার কৌতূহল। চলুন, একটু গুছিয়ে কথা বলি।
মরিনহো ফিরলেন, সঙ্গে চেনা সেই মেজাজ
রিয়ালের ডাগআউটে এখন আবার জোসে মরিনহো, তাও দ্বিতীয়বারের মতো। বার্নাব্যুতে ফিরে তিনি শুরুতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার কাছে বড় নামের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সটাই আসল।
তার একটা কথা বেশ ঝাঁঝালো শোনাল। মরিনহো বললেন, বড় বড় কথা বলা সহজ, কিন্তু মাঠে সেটা করে দেখানো অনেক কঠিন। সফল মৌসুম মানে তার কাছে কী? উত্তরটা একদম সোজা, রিয়াল মাদ্রিদে মৌসুম শেষে হাতে ট্রফি না থাকলে সেটা কোনো সফল মৌসুমই নয়।
এই একটা লাইনেই বোঝা যায়, এবারের রিয়ালকে ঘিরে চাপটা কত বড়।
যাদের ঘিরে সব আলো
দলের আসল শক্তি সামনের সারিতে। এখানেই আছেন তিন মহাতারকা, যাদের নিয়ে গোটা দুনিয়া মেতে থাকে।
- কিলিয়ান এমবাপ্পে: ফ্রান্সের প্রাণভোমরা, গতিতে যাকে থামানো কঠিন।
- ভিনিসিয়ুস জুনিয়র: ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা, বল পায়ে যিনি ম্যাজিশিয়ান।
- জুড বেলিংহাম: ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা, মাঝমাঠ থেকে গোল, সবই পারেন।
মরিনহো নিজেও এদের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, এরা অসাধারণ খেলোয়াড় আর অসাধারণদের সঙ্গেই খেলতে চায়। তবে সঙ্গে এটাও মেনে নিয়েছেন, এই তিনজনকে একসঙ্গে সামলানো মোটেও সহজ কাজ হবে না।
আসল মাথাব্যথা এখানেই
মরিনহোর সামনে সবচেয়ে কঠিন ধাঁধাটা কৌশলের। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস, বেলিংহাম, তিনজনেরই পছন্দের নিজস্ব জায়গা আছে মাঠে। এখন এই পজিশন না ঘেঁটে তিনজনকে একসঙ্গে খেলিয়ে সেরাটা বের করা, এটাই তার আসল চ্যালেঞ্জ।
মরিনহো একটা দারুণ তুলনা দিয়েছেন। তার মতে, ভিনিসিয়ুসের জন্য একদম মাপা দল বানিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ, এমবাপ্পের জন্য ফ্রান্স আর বেলিংহামের জন্য ইংল্যান্ড। কিন্তু এই তিনজনকে একই দলে নিখুঁতভাবে খেলানোর কাজটা তার কাঁধেই, আর সেটা সবচেয়ে কঠিন।
তবু তিনি হাল ছাড়ছেন না। উল্টো আশাবাদী, এই ত্রয়ীই রিয়ালকে দারুণ একটা মৌসুম উপহার দেবে।
শুধু গোল করলেই তো হবে না
গত মৌসুমে রিয়ালের সামনের সারির খেলোয়াড়রা রক্ষণে হাত লাগাতেন না বলে অনেক কথা উঠেছিল। মরিনহো সেই অভ্যাস বদলাতে চান। তার সাফ কথা, মাঠে সবাইকে খাটতে হবে, স্রেফ দাঁড়িয়ে বলের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না।
তিনি চান, কেউ প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করুক, কেউ আবার জায়গা বন্ধ করে রক্ষণ সামলাক। কেউ খাটবে আর কেউ শুধু গোলের অপেক্ষায় বসে থাকবে, এই হিসাব তার কাছে চলবে না। পুরো এগারোজনকেই একসঙ্গে লড়তে হবে।
প্রথম ধাক্কাটা এস্পানিওলের বিপক্ষে
ইউরোপের সফলতম এই ক্লাব নতুন মৌসুম শুরু করছে এস্পানিওলের মাঠে গিয়ে। এটাই তাদের মৌসুমের প্রথম অ্যাওয়ে লিগ ম্যাচ। বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড়দের একটু বাড়তি বিশ্রাম দিতে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা আগেই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে এস্পানিওলকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মৌসুমের শুরুতেই তারা লেভান্তেকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে, সঙ্গে ক্লিন শিটও। মরিনহো তাই সতর্ক। তার মতে, অনেকদিন একই কোচের অধীনে থাকা দলগুলো ভালো গোছানো থাকে, নিজেদের একটা খেলার ধরন থাকে তাদের।
গোছাতেও কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি
মরিনহো জানিয়েছেন, দল গোছানোটা এবার সহজ ছিল না মোটেও। কারণ খেলোয়াড়দের অবস্থা একেকজনের একেকরকম। কেউ ৩৬টা অনুশীলন আর ছয়টা ম্যাচ খেলে পুরো ফিট, আবার কেউ সবে অল্প ম্যাচ আর সীমিত অনুশীলন নিয়ে দলে ঢুকেছেন।
এই কারণেই তাকে আলাদা আলাদা খেলোয়াড়ের জন্য আলাদা ধরনের অনুশীলন সাজাতে হয়েছে। তবে দল নিয়ে তিনি খুশি। বলছেন, ছেলেরা ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠছে, একটা দল হয়ে উঠছে।
রিয়ালকে কেন রাজা বলে সবাই
রিয়াল মাদ্রিদকে এমনি এমনি ফুটবলের রাজা বলা হয় না। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত, আর ইতিহাসের পাতায় গাদা গাদা শিরোপা। সেই গ্যালাকটিকোস যুগ থেকে আজকের সুপারস্টারদের সময় পর্যন্ত, সেরা খেলোয়াড়দের ঠিকানা বরাবরই এই ক্লাব।
এখনকার দলটাও বিশ্বের অন্যতম দামি। এমবাপ্পে, বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস, ভালভার্দের পাশে আছেন আরদা গুলার, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, তরুণ ডিন হুইজেনের মতো নাম। বার্নাব্যুতে এই দল যখন নামে, প্রতিপক্ষের কপালে তখন সত্যিই চিন্তার ভাঁজ পড়ে।
কিছু সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান কোচ কে?
রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান কোচ পর্তুগিজ জোসে মরিনহো, তাও দ্বিতীয়বারের মতো তিনি বার্নাব্যুতে ফিরেছেন। তার একটাই লক্ষ্য, দলকে ট্রফি জেতানো। মরিনহোর মতে, রিয়াল মাদ্রিদে হাতে ট্রফি না থাকলে কোনো মৌসুমকেই সফল বলা যায় না।
রিয়াল মাদ্রিদের সেরা খেলোয়াড় কারা?
রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর জুড বেলিংহাম। এমবাপ্পে ফ্রান্স, ভিনিসিয়ুস ব্রাজিল আর বেলিংহাম ইংল্যান্ড দলেরও বড় ভরসা। এদের সঙ্গে ফেদেরিকো ভালভার্দেও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
মরিনহোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
মরিনহোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস আর বেলিংহামকে সহজাত পজিশন না বদলে একসঙ্গে খেলানো। তিনজনেরই আলাদা খেলার ধরন, তাই কৌশলগতভাবে কাজটা কঠিন। তবে মরিনহো আশাবাদী, এই তিন তারকাকে নিয়ে রিয়াল দারুণ একটা মৌসুম কাটাবে।
রিয়াল মাদ্রিদ নতুন মৌসুম কার বিপক্ষে শুরু করছে?
রিয়াল মাদ্রিদ নতুন লিগ মৌসুম শুরু করছে এস্পানিওলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে। বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি পিছিয়ে যায়। এস্পানিওল মৌসুমের শুরুতেই লেভান্তেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ ফর্মে আছে।
রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াড কি বিশ্বের সবচেয়ে দামি?
হ্যাঁ, রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াড বিশ্বের অন্যতম দামি ফুটবল দল। এমবাপ্পে, বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস, ভালভার্দের সঙ্গে আরদা গুলার, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড আর ডিন হুইজেনের মতো খেলোয়াড় এই দলে আছেন। এই মান আর গভীরতাই রিয়ালকে বাকিদের থেকে আলাদা করে।
শেষমেশ
মরিনহোর অধীনে রিয়ালের এই নতুন অধ্যায়টা সত্যিই জমে উঠবে বলে মনে হচ্ছে। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস, বেলিংহাম, এই তিনজন যদি একসঙ্গে ছন্দে ফেরেন, তাহলে প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। তবে মরিনহো চান কথায় নয়, জবাবটা আসুক মাঠ থেকেই।
এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে সেই পরীক্ষা। সাদা জার্সির ভক্ত হলে চোখ রাখুন প্রতিটা ম্যাচে, কারণ এই মৌসুমটা রিয়ালের জন্য দারুণ কিছু বয়ে আনতে পারে। এমন সব বড় ফুটবল খবর আর ম্যাচের বিশ্লেষণ নিয়মিত পেতে সঙ্গে থাকুন জেটা৩৩ ব্লগের।
