এশিয়ান গেমস ২০২৬: লিটনের নেতৃত্বে পূর্ণ শক্তির দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ, চমক হিসেবে ফিরলেন শান্ত

এশিয়ান গেমস 2026

জাপানের নাগোয়ায় আসন্ন ২০তম এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে এই দলে চমক হয়ে ফিরেছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ভারত-পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও নিজেদের সেরা দল পাঠাচ্ছে বলে বাংলাদেশও নেমেছে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে। তবে টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগেই ভেন্যু ও আবাসন সংকট নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই ব্লগে থাকছে দল, কৌশল, বিতর্ক ও সম্ভাবনার সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

Continue reading “এশিয়ান গেমস ২০২৬: লিটনের নেতৃত্বে পূর্ণ শক্তির দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ, চমক হিসেবে ফিরলেন শান্ত”

Zimbabwe vs South Africa: Brevis Drives Proteas to a 7-Wicket Win

Zimbabwe vs South Africa: Brevis Drives Proteas to a 7-Wicket Win

Zimbabwe vs South Africa ended in an easy seven-wicket win for the Proteas in the Namibia T20I Tri-Series. South Africa chased 145 with 38 balls to spare on 29 August 2026 in Windhoek. Dewald Brevis stayed unbeaten on 75 off only 32 balls, giving his side their first win of the series.

If you love T20 cricket and follow it from Bangladesh, this game gave you a lot to smile about. You saw clean hitting, tight bowling, and a young Proteas side finding its feet. In this blog, you get the full story in simple words. We cover the result, the key stats, the bowling, the standings, the squads, and the head-to-head record between these two sides.

Continue reading “Zimbabwe vs South Africa: Brevis Drives Proteas to a 7-Wicket Win”

এশিয়া কাপ ২০২৬: বাংলাদেশের নারী দল, সময়সূচি, স্কোয়াড ও পূর্ণাঙ্গ গাইড

এশিয়া কাপ-নিগার সুলতানা জ্যোতি

এশিয়ার ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর জন্য বাংলাদেশের নারী দলের সামনে আবারও এসেছে বড় একটি সুযোগ। নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ শুরু হতে যাচ্ছে ২৮ আগস্ট থেকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই আসর চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং এবারের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দুবাইয়ে।

নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবারের টুর্নামেন্টে নামবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া। এরপর গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

শুধু এশিয়া কাপ নয়, এবারের দলটির সামনে রয়েছে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের একই দল অংশ নেবে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টেও। ফলে জ্যোতি ও তার সতীর্থদের সামনে অপেক্ষা করছে টানা দুটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট নিয়ে যারা নিয়মিত খোঁজ রাখেন, তাদের জন্য তাই এবারের এশিয়া কাপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কোন গ্রুপে বাংলাদেশ, ম্যাচগুলো কবে, কারা দলে আছেন, সেমিফাইনালে যেতে কী করতে হবে এবং শিরোপার দৌড়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতট-এই গাইডে সবকিছু সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

এশিয়া কাপের পাশাপাশি ক্রিকেট ও অন্যান্য জনপ্রিয় স্পোর্টসের নিয়মিত আপডেট পেতে Jeta33-এর Sports Blog পেজটি দেখে নিতে পারেন।

এশিয়া কাপ কী এবং নারী এশিয়া কাপের ইতিহাস

এশিয়া কাপ হলো এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বা ACC-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। সাধারণত এশিয়ার শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলো এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় এবং নিজেদের মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নামে।

পুরুষদের এশিয়া কাপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। এরপর ধীরে ধীরে নারী ক্রিকেটেও একই ধরনের একটি বড় মঞ্চ তৈরি হয়। নারী এশিয়া কাপ প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে।

সময়ের সঙ্গে নারী এশিয়া কাপের ফরম্যাটে পরিবর্তন এসেছে। কখনো ওয়ানডে, আবার কখনো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের আসরটি হবে নারী এশিয়া কাপের দশম সংস্করণ এবং এবার আটটি দল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে লড়াই করবে।

ভারত ঐতিহাসিকভাবে নারী এশিয়া কাপে সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি। তবে সাম্প্রতিক আসরগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কঠিন হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সর্বশেষ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেখিয়েছে যে শুধু ভারত নয়, অন্য দলগুলোরও শিরোপা জয়ের ক্ষমতা রয়েছে।

বাংলাদেশও এই প্রতিযোগিতায় নতুন কোনো দল নয়। অতীতে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। এবার লক্ষ্য থাকবে অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া এবং সুযোগ পেলে শিরোপার জন্য লড়াই করা।

এশিয়া কাপ ২০২৬ কবে এবং কোথায় হবে?

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে দুবাইয়ে। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে।

টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৮ আগস্ট এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৩ সেপ্টেম্বর।

দুবাইয়ের কন্ডিশনও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। দিনের সময়ের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং উইকেটের আচরণ বিবেচনায় নিয়ে দলগুলোকে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাতে হবে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান করা এবং মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নেওয়া ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এশিয়া কাপ ২০২৬: এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ সম্পর্কে দ্রুত জানতে নিচের তথ্যগুলো মনে রাখতে পারেন:

  • টুর্নামেন্ট: নারী এশিয়া কাপ ২০২৬
  • আসর: দশম
  • ফরম্যাট: টি-টোয়েন্টি
  • আয়োজক ভেন্যু: দুবাই
  • প্রধান ভেন্যু: দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
  • শুরু: ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • ফাইনাল: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মোট দল: ৮টি
  • বাংলাদেশের অধিনায়ক: নিগার সুলতানা জ্যোতি
  • বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক: নাহিদা আক্তার
  • বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ: ৩১ আগস্ট
  • প্রথম প্রতিপক্ষ: ইন্দোনেশিয়া

আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে উঠবে। সেখান থেকে বিজয়ী দুই দল ফাইনালে খেলবে।

এশিয়া কাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের সময়সূচি

বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে। প্রথম ম্যাচটি ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। এরপর অপেক্ষাকৃত কঠিন প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে জ্যোতির দল।

বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সূচি:

৩১ আগস্ট – বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো করার জন্য এই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ যদি শুরুতেই জয় পায়, তাহলে দুই পয়েন্টের পাশাপাশি দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। একই সঙ্গে পরের দুটি ম্যাচের আগে চাপ কিছুটা কম থাকবে।

৬ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে এই ম্যাচ। শ্রীলঙ্কা গত আসরের চ্যাম্পিয়ন এবং তাদের দলে রয়েছে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই ভালো পারফরম্যান্স প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে দ্রুত চাপে ফেলতে পারলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।

৮ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এই ম্যাচের সময়ে সেমিফাইনালের সমীকরণ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ যদি প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে হেরে যায়, তাহলে এই ম্যাচটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে জয় ছাড়াও নেট রান রেট বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এশিয়া কাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের গ্রুপ

বাংলাদেশ রয়েছে চার দলের একটি গ্রুপে। তাদের সঙ্গে আছে শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশের গ্রুপ

  • বাংলাদেশ
  • শ্রীলঙ্কা
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত
  • ইন্দোনেশিয়া

অন্য গ্রুপ

  • ভারত
  • পাকিস্তান
  • থাইল্যান্ড
  • হংকং চীন

প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে অন্য তিন দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। জয় পেলে দুই পয়েন্ট পাওয়া যাবে।

তিন ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে উঠবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিফাইনালে যেতে বাংলাদেশের কী করতে হবে?

সবচেয়ে সহজ হিসাব হলো—বাংলাদেশকে গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের মধ্যে থাকতে হবে।

তিন ম্যাচে তিনটি জয় পেলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত থাকবে। কিন্তু যদি একটি বা দুটি ম্যাচ হেরে যায়, তখন অন্য দলের ফল এবং নেট রান রেটের ওপরও নির্ভর করতে হতে পারে।

এই কারণে শুধু ম্যাচ জেতাই নয়, বড় ব্যবধানে জয় পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে রান রেট দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।

বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার মতো তুলনামূলক নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ যদি বড় জয় পায়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো টাই বা সমান পয়েন্টের পরিস্থিতিতে সেটি কাজে আসতে পারে।

বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড

বিসিবি ১৭ আগস্ট নারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই প্রতিযোগিতায় একই স্কোয়াড বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

বাংলাদেশের স্কোয়াড

  • নিগার সুলতানা জ্যোতি — অধিনায়ক
  • নাহিদা আক্তার — সহ-অধিনায়ক
  • দিলারা আক্তার
  • জুয়াইরিয়া ফেরদৌস
  • শারমিন আক্তার সুপ্তা
  • শারমিন সুলতানা
  • সোবহানা মোস্তারি
  • স্বর্ণা আক্তার
  • রিতু মনি
  • ফাহিমা খাতুন
  • রাবেয়া খান
  • মারুফা আক্তার
  • সুলতানা খাতুন
  • সানজিদা আক্তার মেঘলা
  • ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা

দলে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভালো একটি মিশ্রণ রয়েছে। ব্যাটিংয়ে জ্যোতি ও অন্যান্য টপ অর্ডার ব্যাটারদের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে। অন্যদিকে স্পিন বিভাগে নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

পেস আক্রমণেও বাংলাদেশের হাতে রয়েছে কার্যকর বিকল্প। মারুফা আক্তার নতুন বলে উইকেট এনে দিতে পারলে পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।

নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ নারী দলের সাম্প্রতিক পথচলায় নিগার সুলতানা জ্যোতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে মাঠে তার ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অধিনায়ক হিসেবেও তার সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ককে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখন বোলার পরিবর্তন করতে হবে, ফিল্ড কোথায় রাখতে হবে কিংবা কখন ব্যাটিংয়ের গতি বাড়াতে হবে—প্রতিটি সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে।

তাই জ্যোতির ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তার নেতৃত্বও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নাহিদা আক্তার: বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের বড় ভরসা

সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্পিনার। দুবাইয়ের কন্ডিশনে স্পিনাররা ম্যাচে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নাহিদা যদি মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রেখে নিয়মিত উইকেট এনে দিতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে।

তার সঙ্গে রাবেয়া খান ও অন্যান্য স্পিন অপশন যোগ হলে বাংলাদেশের হাতে মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ভালো সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং হবে বড় চাবিকাঠি

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান করা এখন প্রায় অপরিহার্য। বাংলাদেশের জন্যও ব্যাটিং হবে এবারের এশিয়া কাপে সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

বিশেষ করে প্রথম ছয় ওভারে উইকেট না হারিয়ে ভালো রান তুলতে পারলে দলটি পরের ১৪ ওভারে আরও আক্রমণাত্মক হতে পারবে।

টপ অর্ডার দ্রুত ফিরে গেলে মাঝের সারির ওপর চাপ বেড়ে যাবে। তাই প্রথম কয়েকজন ব্যাটারের কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বোলিংয়ে কোথায় বাংলাদেশের শক্তি?

বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে বৈচিত্র্য। দলে স্পিনার যেমন আছেন, তেমনি পেস বোলিংয়ের বিকল্পও রয়েছে।

দুবাইয়ের উইকেট যদি ধীরগতির হয়, তাহলে স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। আবার নতুন বলে যদি কিছুটা মুভমেন্ট পাওয়া যায়, তাহলে পেসারদেরও দ্রুত উইকেট নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক বোলিং কম্বিনেশন বেছে নেওয়া।

এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমস: একই দলের সামনে বড় পরীক্ষা

এবারের সূচি বাংলাদেশের নারী দলের জন্য অন্যরকম। এশিয়া কাপ শেষ হওয়ার পর খুব বেশি বিশ্রামের সুযোগ ছাড়াই একই ১৫ সদস্যের দল এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে।

২০তম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে জাপানের আইচি-নাগোয়ায়। ক্রিকেট ইভেন্টে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে।

১৭ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন। সেই ম্যাচে জয় পেলে সেমিফাইনালে ভারত অথবা স্বাগতিক জাপানের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সের পরপরই আরেকটি বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রথমত, ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। টি-টোয়েন্টিতে বড় স্কোর করার জন্য শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি।

দ্বিতীয়ত, শক্তিশালী দলের বিপক্ষে চাপ সামলানো। শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে সামান্য ভুলও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।

তৃতীয়ত, ফিল্ডিং। টি-টোয়েন্টিতে একটি ক্যাচ, রানআউট কিংবা বাউন্ডারি বাঁচানো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

চতুর্থত, ব্যস্ত সূচি সামলানো। একই দলকে এশিয়া কাপ এবং এশিয়ান গেমস—দুটি বড় প্রতিযোগিতায় খেলতে হবে। তাই খেলোয়াড়দের ফিটনেসও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটা?

বাংলাদেশকে এবারের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম প্রধান দাবিদার বলা কঠিন। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

সবকিছু অনেকটাই নির্ভর করবে প্রথম ম্যাচ থেকে তারা কতটা আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারে তার ওপর।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়, এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভালো লড়াই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে কার্যকর পারফরম্যান্স—এই তিনটি ফলাফল বাংলাদেশের সেমিফাইনালের পথ তৈরি করতে পারে।

আর সেমিফাইনালে উঠে গেলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একটি ভালো দিনই অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।

এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ম্যাচ কোথায় দেখবেন?

বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ম্যাচগুলো কোথায় দেখা যাবে?

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলো দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। টেলিভিশন এবং অনুমোদিত ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সম্প্রচারকারী চ্যানেল বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ম্যাচের আগে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

লাইভ স্কোরের পাশাপাশি পয়েন্ট টেবিলও নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি রান রেটও সেমিফাইনালের সমীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য কেন এবারের এশিয়া কাপ গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রতিটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট তাই শুধু ট্রফি জয়ের সুযোগ নয়, দলটির উন্নতি যাচাই করারও একটি পরীক্ষা।

জ্যোতি, নাহিদা, রাবেয়া, মারুফা এবং দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এশিয়া কাপ নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর বড় মঞ্চ।

বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটাররা যদি বড় ম্যাচে ভালো পারফর্ম করতে পারেন, তাহলে সেটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যও ইতিবাচক হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

এশিয়া কাপ ২০২৬ কবে শুরু হবে?

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ শুরু হবে ২৮ আগস্ট ২০২৬ এবং টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৩ সেপ্টেম্বর। এবারের আসর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ এশিয়া কাপ ২০২৬-এ প্রথম ম্যাচ কবে খেলবে?

বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৩১ আগস্ট, প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া।

এশিয়া কাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের মোট কয়টি গ্রুপ ম্যাচ?

বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে মোট তিনটি ম্যাচ খেলবে। প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বাংলাদেশের অধিনায়ক কে?

নিগার সুলতানা জ্যোতি নারী এশিয়া কাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। নাহিদা আক্তার সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশের গ্রুপে কোন দল আছে?

বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া

এশিয়া কাপ ২০২৬-এ কয়টি দল খেলবে?

এবারের নারী এশিয়া কাপে মোট ৮টি দল অংশ নেবে। দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।

সেমিফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে কী করতে হবে?

বাংলাদেশকে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের মধ্যে থাকতে হবে। তিনটি ম্যাচের ফল, পয়েন্ট এবং প্রয়োজনে নেট রান রেটের ভিত্তিতে সেমিফাইনালের দল নির্ধারিত হবে।

এশিয়া কাপ ২০২৬ কোন ফরম্যাটে হবে?

এবারের আসর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে।

এশিয়া কাপের একই দল কি এশিয়ান গেমসেও খেলবে?

হ্যাঁ। এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের একই দল জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টেও অংশ নেবে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ কবে?

বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে এবং ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ হবে চীন।

শেষ কথা

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়। এটি দলের বর্তমান শক্তি যাচাই করার পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগও।

নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে দলটির হাতে অভিজ্ঞতা, তারুণ্য, স্পিন এবং পেস—সব মিলিয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোয়াড রয়েছে। তবে কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল হওয়াই যথেষ্ট নয়। মাঠে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ এবং ফিল্ডিংয়ের মানই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের যাত্রা। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ৮ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি গ্রুপের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ যদি শুরু থেকেই ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ অবশ্যই থাকবে। আর সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে পারলে এরপর যেকোনো কিছুই সম্ভব।

লাল-সবুজের জার্সিতে বাংলাদেশের মেয়েরা এবার কতদূর যেতে পারে, তার উত্তর মিলবে মাঠে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত – বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য সামনে রয়েছে ব্যস্ত, কঠিন এবং রোমাঞ্চকর কয়েকটি সপ্তাহ।

মিরাজ-স্টার্ক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়: ডারউইন টেস্টে আসলে কী ঘটেছিল

মেহেদী হাসান মিরাজ-স্টার্কের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মেহেদী হাসান মিরাজমিচেল স্টার্কের মধ্যে মাঠেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ঘটনাটি ঘটে স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে, সিঙ্গেল নিতে গিয়ে মিরাজ পিচের সুরক্ষিত অংশ মাড়িয়ে যাওয়ায়। স্টার্ক মেজাজ হারিয়ে মিরাজকে বলেন, তিনি এখন আর বাংলাদেশে নেই। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন।

বাংলাদেশ যখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাপট দেখাচ্ছে, তখন এই ঘটনা মারারা ক্রিকেট মাঠে নতুন উত্তেজনা এনে দেয়। অজি পেসাররা এতটাই হতাশ ছিলেন যে অভিজ্ঞ স্টার্কও মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। পুরো ঘটনা, তার প্রেক্ষাপট এবং সেই দিনের রেকর্ডগুলো এখানে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।

ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটল

ঘটনাটি বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে, স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে। মিরাজ বলটি পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়ে দ্রুত একটি রান নিতে দৌড় দেন। দৌড়ানোর সময় তিনি পিচের ঠিক মাঝ বরাবর অংশ দিয়ে ছুটে যান, যেটি ক্রিকেটের নিয়মে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।

ক্রিকেটের আইনে এই মাঝের অংশটিকে প্রোটেক্টেড এরিয়া বলা হয়। বোলারের ফলো-থ্রুর মতোই ব্যাটারদেরও রান নেওয়ার সময় এই অংশ মাড়ানো নিষেধ, যাতে পিচ নষ্ট না হয়। মিরাজ সেই জায়গা দিয়ে দৌড়ানোতেই স্টার্ক আপত্তি তোলেন এবং সেখান থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত।

স্টার্ক মিরাজকে ঠিক কী বলেছিলেন

স্টার্ক মিরাজের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি তার ফলো-থ্রুর জায়গা এবং মিরাজকে উইকেট ছেড়ে দিতে হবে। স্টাম্প মাইক্রোফোনে স্পষ্ট শোনা যায়, তিনি মিরাজকে উইকেট থেকে সরে দাঁড়াতে বলছেন। জবাবে মিরাজ জানান, বল দেখার কারণে তিনি সামনে কিছু খেয়াল করতে পারেননি।

স্টার্ক অবশ্য এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। নিজের জায়গায় ফেরার পথে তাকে আরও একবার বলতে শোনা যায়, মিরাজ এখন আর বাংলাদেশে নেই। ইংরেজিতে তার এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

মিরাজের সহজ ব্যাখ্যা

মিরাজ পাল্টা তর্কে না জড়িয়ে সরল ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, দৌড় শুরুর সময় তার দৃষ্টি ছিল বলের দিকে, তাই সামনে স্টার্ক আছেন কিনা তা দেখতে পাননি। যখন আবার সামনে তাকান, ততক্ষণে তিনি প্রায় স্টার্কের মুখোমুখি এবং ঘুরে যাওয়ার বদলে সোজা এগিয়ে যাওয়াই সহজ মনে করেন।

পরিস্থিতি যাতে আর না বাড়ে, সেজন্য আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসেন। দুই পক্ষকে শান্ত করে তিনি খেলা স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নেন। বড় কোনো শাস্তির ঘটনা এখানে ঘটেনি।

রিকি পন্টিং কেন মিরাজের পক্ষে বললেন

চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যে থাকা সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং এই ঘটনায় মিরাজের পক্ষেই মত দেন। তার মতে, মিরাজের এই কাজ মোটেও ইচ্ছাকৃত ছিল না। বল দেখা শেষে সামনে তাকিয়ে স্টার্ককে পেয়ে মিরাজ পিচের মাঝ দিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক মনে করেছিলেন।

একজন কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার নিজের দেশের বোলারের পরিবর্তে প্রতিপক্ষের ব্যাটারের পক্ষে কথা বলছেন, বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, ঘটনাটি নিছক মাঠের উত্তেজনা ছিল, নিয়ম ভাঙার বড় কোনো অভিপ্রায় নয়।

কেন এত হতাশ ছিলেন স্টার্ক ও অজিরা

এই ঘটনার মূলে ছিল অস্ট্রেলিয়ার তীব্র হতাশা। প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনও ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। অজি পেসাররা উইকেটের জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছিলেন, কিন্তু টাইগার ব্যাটাররা একের পর এক প্রতিরোধ গড়ছিলেন।

দিনের ব্যাটিং চিত্রটা দেখুন:

  • তানজিদ হাসান নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই করেন ১০১ রানের সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।
  • নাজমুল হোসেন শান্ত যোগ করেন ৮৪ রান, সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে হ্যাজলউডের বলে আউট।
  • মুমিনুল হক করেন ৪৯ রান।
  • দ্বিতীয় নতুন বলে ১১ রানে ৩ উইকেট হারালেও মিরাজ ৩২হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন।

দিন শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে ১৫৩ রানের লিড নেয়। প্রতিপক্ষকে দুই দশকের বেশি সময় পর নিজেদের মাটিতে এমন চাপে দেখে স্টার্কের মতো অভিজ্ঞ বোলারও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন।

যে টেস্টে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

মজার বিষয় হলো, যে বলে মিরাজের সঙ্গে তার বাদানুবাদ, সেই একই দিনে স্টার্ক গড়েন বড় এক মাইলফলক। লিটন দাসকে শূন্য রানে ফিরিয়ে তিনি টেস্টে নিজের ৪৩৫তম উইকেট পান এবং ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবকে (৪৩৪) ছাড়িয়ে যান। এতে তিনি টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসার হন।

একই ম্যাচে আগে শাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে স্টার্ক শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথকে (৪৩৩) ছাড়িয়ে টেস্ট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি বোলার হন। তবে দিনটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার একার ছিল না। বাংলাদেশও গড়ে একগুচ্ছ রেকর্ড:

  • হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার গড়েন, ২০০৬ সালে মোহাম্মদ রফিকের ৫/৬২ ছাড়িয়ে।
  • অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট, বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন টেস্ট সংগ্রহ।
  • তাসকিন আহমেদ ৩০০ আন্তর্জাতিক উইকেট পূর্ণ করেন, বাংলাদেশের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে।
  • স্টিভ স্মিথ স্লিপে তিন ক্যাচ নিয়ে জো রুটের সঙ্গে যৌথভাবে উইকেটরক্ষক ছাড়া সর্বোচ্চ ২১৮ টেস্ট ক্যাচের রেকর্ডে ভাগ বসান।

২০০৬-এর ছায়া, তবে এবার ভিন্ন গল্প

বাংলাদেশ এর আগে মাত্র একবারই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৫০+ রানের লিড নিয়েছিল, ২০০৬ সালে ফতুল্লায়। সেবার ৪২৭ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৯ রানে গুটিয়ে ১৫৮ রানের লিড পেলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ।

এবার প্রেক্ষাপট আলাদা। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আধিপত্য দেখাচ্ছে। দ্বিতীয় দিন শেষে হাতে ৪ উইকেট রেখে ১৫৩ রানের লিড, আর লক্ষ্য সেই লিড ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়া।

মিরাজের ব্যাটেই আসল জবাব

মুখে নয়, মিরাজ জবাব দেন ব্যাট হাতে। বাংলাদেশ যখন ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ চাপে, তখন হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইনিংস মেরামত করেন। নতুন বলে দ্রুত তিন উইকেট পড়ার পরও অস্ট্রেলিয়া এই জুটি ভাঙতে পারেনি।

৭৩ বলে অপরাজিত ৩২ রানের এই ইনিংস স্কোরবোর্ডে হয়তো বড় নয়, কিন্তু প্রেক্ষাপটে অমূল্য। মিরাজ ও হাসান শেষ বিকেলে অজি পেসারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন এবং পুরো দিনে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে আটজন বোলার ব্যবহার করতে বাধ্য করে।

এই ঘটনা কেন এত আলোচিত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এমন দাপটই এই ঘটনার আসল প্রেক্ষাপট। প্রতিপক্ষ যখন চাপে, তখনই মাঠে এমন উত্তেজনা জন্ম নেয়। স্টার্কের মন্তব্য সেই হতাশারই প্রতিফলন, আর মিরাজের ঠান্ডা প্রতিক্রিয়া তার পরিণত মানসিকতার প্রমাণ।

মিরাজ পুরো ঘটনায় তর্কে জড়াননি, বরং ব্যাটে জবাব দিয়েছেন। বড় মঞ্চে চাপের মুখে এমন আচরণই একজন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যের পরিচয় দেয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

মিরাজ ও স্টার্কের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে তর্ক হয়েছিল?

স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে মিরাজ পিচের সুরক্ষিত অংশ দিয়ে দৌড়ান, যা স্টার্কের ফলো-থ্রুর পথে পড়ে। ক্রিকেটের নিয়মে এই প্রোটেক্টেড এরিয়া মাড়ানো নিষেধ। এতেই স্টার্ক মেজাজ হারিয়ে মিরাজকে উইকেট থেকে সরে যেতে বলেন এবং বাক্যবিনিময় শুরু হয়।

স্টার্ক মিরাজকে ঠিক কী বলেছিলেন?

স্টার্ক প্রথমে মিরাজকে বলেন যে এটি তার ফলো-থ্রুর জায়গা এবং তাকে উইকেট থেকে সরে যেতে হবে। মিরাজ ব্যাখ্যা দিলেও স্টার্ক সন্তুষ্ট হননি। ফেরার পথে তিনি আরও বলেন, মিরাজ এখন আর বাংলাদেশে নেই। স্টাম্প মাইক্রোফোনে তার এই মন্তব্য স্পষ্ট শোনা যায়।

এই ঘটনায় রিকি পন্টিং কী মন্তব্য করেছিলেন?

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যে মিরাজের পক্ষে কথা বলেন। তার মতে, মিরাজের কাজটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। বল দেখা শেষে সামনে তাকিয়ে স্টার্ককে পেয়ে মিরাজ পিচের মাঝ দিয়ে যাওয়াই সহজ মনে করেছিলেন বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।

একই দিনে স্টার্ক কোন রেকর্ড গড়েছিলেন?

লিটন দাসকে শূন্য রানে ফিরিয়ে স্টার্ক টেস্টে ৪৩৫তম উইকেট নেন এবং কপিল দেবকে (৪৩৪) ছাড়িয়ে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসার হন। একই ম্যাচে আগে শাদমানকে ফিরিয়ে তিনি হেরাথকে ছাড়িয়ে টেস্ট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি বোলারও হন।

ঘটনার পর মিরাজ কেমন পারফর্ম করেছিলেন?

মিরাজ মুখে তর্ক না করে ব্যাটে জবাব দেন। বাংলাদেশ ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর তিনি হাসান মাহমুদকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন পার করেন। ৭৩ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংসে তিনি দলের লিড ১৫৩ রানে নিয়ে যান এবং অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করেন।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের অবস্থা কী ছিল?

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে ১৫৩ রানের লিড নেয়। তানজিদের ১০১ ও শান্তর ৮৪ রান বড় ভূমিকা রাখে। হাতে ৪ উইকেট রেখে তৃতীয় দিন বাংলাদেশ লিড ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে নামবে, আর ম্যাচে চালকের আসনে সফরকারীরাই।

শেষ কথা

মিরাজ-স্টার্কের এই বাক্যবিনিময় ডারউইন টেস্টের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে থাকল। তবে আসল গল্প আরও বড়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই দাপট। স্টার্কের রেকর্ড কিংবা হাসানের ৬ উইকেট, সব ছাপিয়ে দিনটি হয়ে থাকল টাইগারদের।

মিরাজ প্রমাণ করলেন, চাপের মুখে কথায় নয়, পারফরম্যান্সেই জবাব দিতে হয়। তৃতীয় দিন লিড আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে নামবে বাংলাদেশ, আর এই সম্ভাবনাময় টেস্টের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

ডারউইন টেস্টের প্রতিটি বল, স্কোর আর সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন জেটা৩৩ ব্লগে, যেখানে বাংলাদেশের খেলার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ পাবেন এক জায়গায়।

Litton Das: Career, Stats, Age, and Latest News in 2026

Litton Das

Litton Das is Bangladesh’s first-choice wicketkeeper-batter and current white-ball captain, known for his elegant strokeplay and match-saving Test hundreds. Born on 13 October 1994 in Dinajpur, he made his international debut in 2015 and holds Bangladesh’s highest ODI score of 176. In 2026, he leads the ODI and T20I sides.

If you follow Bangladeshi cricket closely, you already know the name. He splits opinion like few others, capable of a breathtaking cover drive one over and a soft dismissal the next. This guide pulls together his full story: stats, records, the captaincy shifts, injury news, the recent BCB hearing, and where he stands right now.

Continue reading “Litton Das: Career, Stats, Age, and Latest News in 2026”