
এ এফ সি এশিয়ান কাপের অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বের ড্র শেষ হয়েছে, আর তাতেই বাংলাদেশের কপালে জুটেছে বেশ কঠিন এক গ্রুপ। কুয়ালালামপুরের ড্রয়ে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, ভুটান ও ম্যাকাও। প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী সিরিয়ার।
তবে কঠিন গ্রুপ মানেই তো হার মেনে নেওয়া নয়। বরং বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ। চলুন, পুরো ছবিটা সহজ করে সাজিয়ে দেখে নিই, আমাদের কিশোরদের সামনে ঠিক কী অপেক্ষা করছে।
এ এফ সি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ কোন গ্রুপে?
এ এফ সি এশিয়ান কাপের অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ পড়েছে ‘সি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, ভুটান ও ম্যাকাও। কাগজে-কলমে গ্রুপটি বেশ কঠিন, তাই লড়াইটাও হবে জমজমাট।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এএফসি হাউসে অনুষ্ঠিত ড্রয়ে এই গ্রুপ নির্ধারণ হয়। মোট ৩৫টি দলকে ভাগ করা হয়েছে ৭টি গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপেই আছে পাঁচটি করে দল।
গ্রুপে আমিরাত ও সিরিয়ার মতো শক্তিশালী দল থাকায় বাংলাদেশের পথটা সহজ হবে না। তবে ভুটান ও ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে ভালো ফলের সুযোগও থাকছে।
বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো কবে ও কোথায় হবে?
এ এফ সি এশিয়ান কাপের এই বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো হবে ৮ থেকে ২০ নভেম্বর। ‘সি’ গ্রুপের আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাই বাংলাদেশকে তাদের সব ম্যাচ খেলতে হবে আমিরাতের মাটিতেই।
ভিনদেশে খেলা মানে কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জও সঙ্গে থাকবে। গরম আবহাওয়া, ভিন্ন মাঠ আর হোম দর্শকের সমর্থন, সবই আমিরাতের পক্ষে যাবে। তবু এমন পরিবেশে খেলাটাই তো তরুণদের আসল পরীক্ষা।
কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাছাইপর্বের প্রথম দিনেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আর সেই ম্যাচেই প্রতিপক্ষ সিরিয়া, যা শুরুতেই কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষা।
‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা?
‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সামনে চার প্রতিপক্ষ, যাদের শক্তি একেকজনের একেক রকম। আমিরাত ও সিরিয়া যেখানে শিরোপার দাবিদার, সেখানে ভুটান ও ম্যাকাও তুলনামূলক দুর্বল। তাই গ্রুপটি ভারসাম্যহীন নয়, বরং কৌশলের লড়াই।
স্বাগতিক আমিরাত নিজেদের মাঠে সবচেয়ে বড় হুমকি। সিরিয়ার বয়সভিত্তিক ফুটবলও যথেষ্ট উন্নত। এই দুই দলের বিপক্ষে পয়েন্ট পেতে হলে রক্ষণে জমাট থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
অন্যদিকে ভুটান ও ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়াই হবে মূল লক্ষ্য। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দিতে পারে বাংলাদেশের ভাগ্য।
‘সি’ গ্রুপ এক নজরে
| দল | ভূমিকা |
|---|---|
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | স্বাগতিক, ফেভারিট |
| সিরিয়া | শক্তিশালী, বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ |
| বাংলাদেশ | চ্যালেঞ্জের সামনে |
| ভুটান | তুলনামূলক দুর্বল |
| ম্যাকাও | তুলনামূলক দুর্বল |
মূল পর্বে যেতে বাংলাদেশকে কী করতে হবে?
মূল পর্বে জায়গা পাওয়ার সমীকরণটা কঠিন হলেও পরিষ্কার। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলই সরাসরি জায়গা করে নেবে এ এফ সি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। অর্থাৎ, বাংলাদেশকে গ্রুপসেরা হতেই হবে।
শুধু ভালো খেললেই হবে না, শীর্ষে থেকেই গ্রুপ শেষ করতে হবে। এখানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়ে লাভ নেই। এই নিয়মই লড়াইটাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
সাত গ্রুপ থেকে সাত চ্যাম্পিয়ন সরাসরি মূল পর্বে উঠবে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে আগে থেকেই জায়গা পাওয়া নয়টি দল। সব মিলিয়ে ১৬ দলের মূল পর্ব হবে জমজমাট।
মূল পর্ব কবে ও কোথায় হবে?
এ এফ সি এশিয়ান কাপের অনূর্ধ্ব-১৭ মূল পর্ব হবে উজবেকিস্তানে। আসর বসবে আগামী বছরের ১২ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত। মধ্য এশিয়ার এই দেশটি এবার হয়ে উঠবে তরুণ ফুটবলারদের মিলনমেলা।
মূল পর্বে সরাসরি জায়গা পাওয়া নয়টি দল ইতিমধ্যে নিশ্চিত। এরা হলো অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। এই দলগুলো কাতার বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ায় সরাসরি সুযোগ পেয়েছে।
বাকি সাত জায়গার জন্য লড়বে বাছাইপর্বের গ্রুপগুলো। বাংলাদেশ যদি ‘সি’ গ্রুপের সেরা হতে পারে, তবেই মিলবে উজবেকিস্তানের টিকিট।
বাছাইপর্বের বাকি গ্রুপগুলোতে কারা আছে?
শুধু বাংলাদেশের গ্রুপই নয়, পুরো বাছাইপর্বই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাতটি গ্রুপে ছড়িয়ে আছে এশিয়ার নানা শক্তিধর দল। কোনো গ্রুপেই সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই।
‘এ’ গ্রুপে আছে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়া। ‘বি’ গ্রুপে থাইল্যান্ড, ইরাক, হংকং, চীনা তাইপে ও মালদ্বীপ। আর ‘ডি’ গ্রুপে ইরান, লাওস, জর্ডান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী ভারত পড়েছে ‘ই’ গ্রুপে। তাদের সঙ্গে আছে মালয়েশিয়া, ফিলিস্তিন, সিঙ্গাপুর ও গুয়াম। এই গ্রুপগুলোর দিকেও চোখ রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা।
বাছাইপর্বের সব গ্রুপ
| গ্রুপ | দলসমূহ |
|---|---|
| এ | ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া |
| বি | থাইল্যান্ড, ইরাক, হংকং, চীনা তাইপে, মালদ্বীপ |
| সি | সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, বাংলাদেশ, ভুটান, ম্যাকাও |
| ডি | ইরান, লাওস, জর্ডান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা |
| ই | ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিস্তিন, সিঙ্গাপুর, গুয়াম |
| এফ | ইয়েমেন, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডস |
| জি | ওমান, কুয়েত, বাহরাইন, লেবানন, ব্রুনেই দারুসসালাম |
এ এফ সি এশিয়ান কাপ আসলে কী?
এ এফ সি এশিয়ান কাপ হলো এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট, যা পরিচালনা করে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। সিনিয়র দল থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২৩, নানা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এই আসর হয়।
অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখান থেকেই বেরিয়ে আসে আগামী দিনের তারকারা। আজকের কিশোর খেলোয়াড়ই কাল হয়ে ওঠে জাতীয় দলের ভরসা।
তাই এ এফ সি এশিয়ান কাপকে শুধু একটি টুর্নামেন্ট ভাবলে ভুল হবে। এটি একটি দেশের ফুটবল ভবিষ্যতের আয়নাও বটে। এখানে ভালো করা মানে দেশের ফুটবলের ভিত মজবুত হওয়া।
বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটা?
সত্যি বলতে, বাংলাদেশের পথটা সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। আমিরাত ও সিরিয়ার বিপক্ষে লড়াই কঠিন হবে ঠিকই, কিন্তু ভুটান ও ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের কিশোরদের আছে।
গ্রুপসেরা হতে হলে প্রতিটি ম্যাচেই সেরাটা দিতে হবে। বিশেষ করে বড় দুই দলের বিপক্ষে অন্তত এক ম্যাচে অঘটন ঘটাতে পারলে সমীকরণ বদলে যেতে পারে। ফুটবলে এমন চমক তো নতুন নয়।
আপনি যদি বাংলাদেশ ফুটবলের এই যাত্রার সঙ্গে থাকতে চান, তাহলে নিয়মিত খেলার খবর রাখুন। লাইভ ম্যাচের উত্তেজনার সঙ্গে থাকতে Jeta33 এর মতো প্ল্যাটফর্মেও ম্যাচের আপডেট মেলে।
এই বাছাইপর্ব বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই বাছাইপর্ব বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় মঞ্চ। অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে ভালো করা মানে আগামীর জাতীয় দলের ভিত তৈরি হওয়া। আজকের এই কিশোররাই তো একদিন সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেবে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও এখানে বড় প্রাপ্তি। আমিরাত বা সিরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলে আমাদের ছেলেরা যা শিখবে, তা দেশের মাঠে সম্ভব নয়। এই অভিজ্ঞতাই তাদের পরিণত করে তুলবে।
তাই ফল যা-ই হোক, এই যাত্রা থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আছে। প্রতিটি ম্যাচই হবে শেখার, বেড়ে ওঠার আর নিজেদের চেনানোর সুযোগ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
এ এফ সি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ কোন গ্রুপে পড়েছে?
এ এফ সি এশিয়ান কাপের অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, ভুটান ও ম্যাকাও। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ড্রয়ে এই গ্রুপ নির্ধারিত হয়। গ্রুপটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ কে?
এ এফ সি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ সিরিয়া। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাছাইপর্বের প্রথম দিনেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। শুরুতেই শক্তিশালী সিরিয়ার মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা হতে চলেছে।
বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো কবে হবে?
এ এফ সি এশিয়ান কাপের এই বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো হবে ৮ থেকে ২০ নভেম্বর। ‘সি’ গ্রুপের স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত হওয়ায় বাংলাদেশের সব ম্যাচ আমিরাতেই অনুষ্ঠিত হবে। ভিনদেশের কন্ডিশনে খেলা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
মূল পর্বে যেতে বাংলাদেশকে কী করতে হবে?
মূল পর্বে যেতে হলে বাংলাদেশকে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। প্রতিটি গ্রুপের শুধু শীর্ষ দলই সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পাবে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়ে সুযোগ নেই। তাই প্রতিটি ম্যাচেই সেরাটা দিতে হবে বাংলাদেশকে।
এ এফ সি এশিয়ান কাপের মূল পর্ব কোথায় হবে?
এ এফ সি এশিয়ান কাপের অনূর্ধ্ব-১৭ মূল পর্ব হবে উজবেকিস্তানে, আগামী বছরের ১২ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত। ইতিমধ্যে নয়টি দল সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পেয়েছে। বাকি সাত জায়গার জন্য লড়বে সাত গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা।
কোন নয়টি দল সরাসরি মূল পর্বে খেলবে?
সরাসরি মূল পর্বে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। কাতার বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ায় এই নয়টি দল বাছাইপর্ব ছাড়াই সরাসরি সুযোগ পেয়েছে। বাকি দলগুলোকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসতে হবে।
শেষ কথা
এ এফ সি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে কঠিন গ্রুপে পড়লেও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ কিন্তু কম নয়। আমিরাত, সিরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে লড়াই যেমন কঠিন, তেমনি নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চও। ভুটান ও ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে জয়ই হতে পারে মূল পর্বের চাবিকাঠি।
নভেম্বরের এই লড়াই তাই আমাদের কিশোরদের জন্য স্বপ্নপূরণের এক বড় পরীক্ষা। ভক্ত হিসেবে আমাদের কাজ তাদের পাশে থাকা, প্রতিটি ম্যাচে উৎসাহ জোগানো।
বাংলাদেশ ফুটবলের এই যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে থাকতে চাইলে নিয়মিত খেলার খবরে চোখ রাখুন। লাইভ ম্যাচের রোমাঞ্চ ও সর্বশেষ আপডেট পেতে আজই Jeta33 ঘুরে আসুন, আর খেলা উপভোগ করুন দায়িত্বশীলভাবে।
