
নাহিদ রানা পিএসএল ২০২৬-এ মাত্র ৫ ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট নিয়েছেন। ফাইনালে ৪ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে পেশোয়ার জালমিকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতিতে বল করে বাবর আজম থেকে ওয়াসিম আকরাম পর্যন্ত সবার মুগ্ধতা অর্জন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ২৩ বছর বয়সী পেসার।
নাহিদ রানা কে? চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে PSL ফাইনাল পর্যন্ত
নাহিদ রানার গল্পটা শুরু হয় বাংলাদেশের উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর পেস বোলিংয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। লম্বা ছিপছিপে গড়নের এই ছেলেটি ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্রুত নজর কাড়েন।
বয়স মাত্র ২৩। তবু তাঁর ক্যারিয়ার ইতিমধ্যে এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে, যেখানে পৌঁছাতে অনেক পেসারের পুরো ক্যারিয়ার লেগে যায়। ২০২৬ সালে এসে নাহিদ রানা শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম আলোচিত পেস বোলার।
নাহিদ রানার ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পুরো নাম | নাহিদ রানা |
| বয়স | ২৩ বছর |
| জন্মস্থান | চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ |
| বোলিং স্টাইল | ডানহাতি ফাস্ট |
| সর্বোচ্চ গতি | ১৫১ কিমি/ঘণ্টা |
| PSL দল | পেশোয়ার জালমি (২০২৬) |
| PSL ক্রয়মূল্য | ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (~৳২৬ লাখ) |
| আন্তর্জাতিক পুরস্কার | দুই সিরিজে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ |
তাঁকে নিয়ে টম ল্যাথামের মন্তব্য আলোচনায় এসেছে। নিউজিল্যান্ডের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার বলেছিলেন, নাহিদের বয়স মাত্র ২৩ শুনে অবাক হয়েছেন। এই বয়সে এত গতি এবং নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে থাকা বিরল।
গত ৫৩ দিনে নাহিদ রানা কী কী করলেন?
১১ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত মাত্র ৫৩ দিনে নাহিদ রানার পারফরম্যান্সের চিত্রটা দেখলে অবাক হতে হয়। এই সময়ে তিনি মোট ১১টি ম্যাচ খেলেছেন। ৬টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এবং ৫টি PSL টি-টোয়েন্টি।
এই ১১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচে উইকেট পাননি। বাকি সব ম্যাচেই উইকেটের মুখ দেখেছেন। এটা একটা অসাধারণ ধারাবাহিকতা, যা বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি।
৫৩ দিনের পারফরম্যান্স সারণি
| সিরিজ/টুর্নামেন্ট | ম্যাচ | উইকেট | গড় | ইকোনমি | পুরস্কার |
|---|---|---|---|---|---|
| পাকিস্তান ওডিআই সিরিজ | ৩ | ৮ | ১২.৫০ | ৫.২৩ | প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ |
| নিউজিল্যান্ড ওডিআই সিরিজ | ৩ | ৮ | ১৩.২৫ | ৫.৩৫ | প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ |
| PSL ২০২৬ | ৫ | ৯ | ১০.৮৮ | ৫.৪৪ | সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ (ফাইনাল) |
| মোট | ১১ | ২৫ | – | – | – |
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ওডিআইতে ৫/২৪ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওডিআইতে ৫/৩২ নেন। পর পর দুই সিরিজে সেরা বোলার হওয়াটা একটা অন্যরকম অর্জন।
এরপর PSL ফাইনাল খেলতে পাকিস্তান যান। বিমান থেকে নেমে মাত্র তিন দিন পর ফাইনালের মাঠে দাঁড়ালেন। সেখানেও থামলেন না।
PSL ২০২৬-এ নাহিদ রানার ম্যাচওয়ারি পারফরম্যান্স
পেশোয়ার জালমি ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে নাহিদ রানাকে কিনেছিল। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ২৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এই বিনিয়োগ কতটা লাভজনক ছিল, সেটা তাঁর পুরো টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়।
নাহিদ রানার PSL ২০২৬ ম্যাচ বিশ্লেষণ
প্রথম ম্যাচ (অভিষেক) প্রথম ম্যাচটা ছিল কঠিন। উইকেটহীন ৩০ রান খরচ হলো। নিজের কাছেও ভালো লাগেনি। কিন্তু এটাই তাঁর চরিত্র, একটা খারাপ দিন তাঁকে দমাতে পারে না।
দ্বিতীয় ম্যাচ (করাচি কিংস) এই ম্যাচে আসল নাহিদ রানাকে দেখা গেল। বোলিং ফিগার: ৪-১-৭-৩। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ২০টি ছিল ডট বল। সাদ বেগ, খুশদিল শাহ এবং অ্যাডাম জাম্পাকে ফেরালেন। বিশ্বমঞ্চে নিজেকে জানান দিলেন।
তৃতীয় ম্যাচ (লাহোর কালান্দার্স) বোলিং ফিগার: ৪-০-১৫-২। লাহোরের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ রানে ২ উইকেট।
চতুর্থ ম্যাচ (মুলতান সুলতান) বোলিং ফিগার: ৪-০-২৪-২। আবারও ২ উইকেট।
পঞ্চম ম্যাচ (ফাইনাল: হায়দরাবাদ কিংসমেন) বোলিং ফিগার: ৪-১-২২-২। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে গোল্ডেন ডাক। হুনাইন শাহকে ইয়র্কারে বোল্ড। ফাইনালের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার।
PSL ২০২৬-এ নাহিদ রানার সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | ওভার | রান | উইকেট | ডট বল |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | – | ৪ | ৩০ | ০ | ১২ |
| ২ | করাচি কিংস | ৪ | ৭ | ৩ | ২০ |
| ৩ | লাহোর কালান্দার্স | ৪ | ১৫ | ২ | ১৬ |
| ৪ | মুলতান সুলতান | ৪ | ২৪ | ২ | ১৪ |
| ৫ (ফাইনাল) | হায়দরাবাদ | ৪ | ২২ | ২ | ১৫ |
| মোট | ২০ | ৯৮ | ৯ | ৭৭ |
মোট ১০৮টি ডেলিভারির মধ্যে ৭৭টি ছিল ডট বল। এই সংখ্যাটা তাঁর বোলিংয়ের চাপ তৈরির ক্ষমতা বুঝিয়ে দেয়। পুরো আসরে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার ছিলেন নাহিদ রানা, ইকোনমি রেট মাত্র ৫.৪৪।
PSL ফাইনালে নাহিদ রানা কীভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন?
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৩ মে রাতে পিএসএল ফাইনাল হয়েছে। আগের রাতে তুমুল ঝড় হয়েছিল। স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীরা রাত তিন ঘণ্টা পিচ কভারের ওপর বসে থেকে উইকেট রক্ষা করেছেন। শেষমেশ ম্যাচ মাঠে গড়ানো সম্ভব হয়েছে।
টস জিতে বাবর আজম প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন। একাদশে নাহিদ রানার জায়গা দিতে খুররাম শেহজাদকে বাদ দেওয়া হয়।
ফাইনালের বোলিং বিশ্লেষণ
নাহিদ রানার প্রথম ওভার (৬ষ্ঠ ওভার) খুব ভালো যায়নি। সাইম আইয়ুব পর পর ছক্কা ও চার মেরে ১৩ রান নিলেন। তবে এই পেসার চাপে ভাঙেন না।
দ্বিতীয় স্পেলে (৮ম ওভার) এলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে সামলাতে। প্রথম বলেই শর্ট ডেলিভারিতে ম্যাক্সওয়েলকে পুল করতে বাধ্য করলেন। মিড অনে ফারহান ইউসুফের হাতে ক্যাচ। ম্যাক্সওয়েল শূন্য রানে ফিরলেন।
তৃতীয় স্পেলে (১৪তম ওভার) মেডেন ওভার করলেন। পঞ্চম বলে হুনাইন শাহকে মিডল স্ট্যাম্পে ইয়র্কার মারলেন। স্ট্যাম্প উড়ে গেল।
শেষ স্পেলে (১৭তম ওভার) মাত্র ৪ রান দিলেন। প্রথম বলে ইয়র্কারে সাইম আইয়ুবকে প্রায় ফেলেছিলেন। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন, তবে বল ট্র্যাকিংয়ে পিচিং আউটসাইড লেগ দেখা গেল।
ফাইনালে নাহিদ রানার গতির তথ্য
| ডেলিভারি | গতি (কিমি/ঘণ্টা) |
|---|---|
| প্রথম ডেলিভারি | ১৪৭.৪ |
| সর্বোচ্চ গতি | ১৪৮.০ |
| শেষ ডেলিভারি | ১৪৫.০ |
| গড় গতি | ১৪১.২ |
হায়দরাবাদ শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে অলআউট হয়ে গেল। পাওয়ার প্লেতে তাদের স্কোর ছিল ৬৯/২। শেষ ১২ ওভারে ৬০ রানে ৮ উইকেট হারাল। নাহিদ রানার চাপ সেই ধস নামানোর পথ তৈরি করেছিল।
রান তাড়ায় পেশোয়ার ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল। সেখান থেকে অ্যারন হার্ডি (৩৯ বলে ৫৬ অপরাজিত) এবং আবদুল সামাদ (৩৪ বলে ৪৮) মিলে ৮৫ রানের জুটি গড়লেন। পেশোয়ার ২৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতল।
নাহিদ রানা ফাইনালে “সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ” পুরস্কার পেয়েছেন। এর পাশাপাশি উইজডেনের PSL একাদশেও তাঁর নাম আছে।
বাবর, ওয়াসিম, হার্ডি: কেন সবাই নাহিদ রানার প্রশংসা করছেন?
অ্যারন হার্ডি কী বললেন?
PSL ফাইনালে চার উইকেট এবং ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ফাইনাল সেরা হলেন অ্যারন হার্ডি। ফাইনালের পরেই তিনি নাহিদ রানা প্রসঙ্গে বললেন। তাঁর কথার সারমর্ম ছিল, নাহিদ রানা মাত্র তিন দিন আগে প্লেন থেকে নেমেছেন। তবু তিনি দুর্দান্ত গতিতে বল করেছেন।
করাচিতে যখন ১৫১ কিলোমিটার গতিতে বল করছিলেন, সেটা ব্যাটারদের জন্য সত্যিই কঠিন ছিল বলে হার্ডি জানান। বাবর আজম সম্পর্কে তিনি বললেন, বাবর জানেন নাহিদকে মোকাবিলা করাটা কতটা কঠিন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে হার্ডির মন্তব্য ছিল স্পষ্ট। তিনি মনে করেন নাহিদ সারা বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলবেন এবং তাঁর মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে সবাই নিতে চাইবে।
ওয়াসিম আকরাম কী বললেন?
কমেন্ট্রি বক্সে বসে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম থামলেন মুগ্ধতায়। নাহিদ রানার গতি, সুইং, বাউন্স এবং ইয়র্কার একসঙ্গে দেখে বললেন, এই ছেলের অ্যাকশন সহজ। মোটেও জটিল নয়। কিন্তু ফলাফল অসাধারণ।
“গতি বলতে এটাই বোঝায়। সে তাদের সবাইকে সমস্যায় ফেলেছিল। ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কিমি গতিতে তাঁর দৌড়ানোর ভঙ্গিটা দারুণ। তার সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।” ওয়াসিম আকরামের এই মন্তব্য এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা গর্বের সঙ্গে শেয়ার করছেন।
নাহিদ রানা বনাম বাংলাদেশের অন্যান্য পেসার
বাংলাদেশের ক্রিকেটে পেস বোলিং নিয়ে বরাবর আক্ষেপ ছিল। মাশরাফি বিন মোর্তজার পর এত গতিসম্পন্ন এবং ধারাবাহিক কোনো পেসার পাওয়া যাচ্ছিল না। নাহিদ রানা সেই শূন্যস্থান পূরণ করছেন।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ
| পেসার | সর্বোচ্চ গতি | আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ইকোনমি | বড় আসরে ৫ উইকেট |
|---|---|---|---|
| নাহিদ রানা | ১৫১ কিমি/ঘণ্টা | ৫.৩৫ (ওডিআই) | হ্যাঁ (পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে) |
| তাসকিন আহমেদ | ১৪৫ কিমি/ঘণ্টা | ৫.৬০ | হ্যাঁ |
| শরিফুল ইসলাম | ১৩৮ কিমি/ঘণ্টা | ৬.১০ | না |
নাহিদ রানার গতি বাংলাদেশের বর্তমান পেস বোলিং দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু গতি নয়, নিয়ন্ত্রণও তাঁর অনেক বেশি। এই দুটো একসঙ্গে থাকাটাই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
বিসিবির ভূমিকা এবং পেশোয়ারের বিশেষ অনুরোধ
এই গল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বিসিবির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন। নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছিল নাহিদকে আর PSL-এ পাঠানো হবে না। পাকিস্তান টেস্টের প্রস্তুতির জন্য দেশে রাখা হবে।
পেশোয়ার ফাইনালে উঠলে পুরো চিত্র বদলে গেল। ফ্র্যাঞ্চাইজি বিসিবির কাছে বিশেষ অনুরোধ করল। বাড়তি বোনাস এবং বাড়তি অর্থের প্রস্তাব দিল। বিসিবি শেষমেশ ছাড়পত্র দিল।
নাহিদ রানা প্লেন থেকে নামলেন। তিন দিন পর ফাইনালে মাঠে দাঁড়ালেন। সেখানে কী করলেন সেটা আপনি ইতিমধ্যে জানেন।
এই ঘটনাটা একটা বার্তা দেয়। নাহিদ রানা এখন শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয়। তিনি বৈশ্বিক ক্রিকেটের একটা মূল্যবান অংশ হয়ে উঠছেন।
PSL ২০২৬-এ উইজডেনের সেরা একাদশ
পুরো PSL আসর শেষে উইজডেন তাদের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে। সেই একাদশে নাহিদ রানার নাম আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এটা একটা বিরল সম্মান।
উইজডেনের PSL ২০২৬ একাদশে নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে, শুধু দেশের সমর্থকরা নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও তাঁকে এই আসরের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন।
আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ: নাহিদ রানাকে নিয়ে প্রত্যাশা
৮ মে ঢাকায় মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্ট শুরু হচ্ছে। এই টেস্টে নাহিদ রানার মুখোমুখি হবেন তাঁর PSL সতীর্থ বাবর আজম। মাত্র কয়েকদিন আগে একই দলে ছিলেন। এখন প্রতিপক্ষ।
পাকিস্তান দল ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে। তবে বাবর আজমের আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। PSL ফাইনালের পর ব্যক্তিগত কারণে তিনি দেরিতে আসতে পারেন বলে জানা গেছে।
টেস্টে নাহিদ রানার গতি কতটা কার্যকর হবে?
ঢাকার মিরপুরের উইকেট সাধারণত স্পিনারদের সহায়ক। কিন্তু প্রথম দিন এবং দ্বিতীয় দিন পেসাররাও সুবিধা পেতে পারেন। নাহিদ রানার সুইং এবং গতির সমন্বয় সেই পরিবেশে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
হার্ডি বলেছেন, বাবর জানেন নাহিদকে সামলানো কতটা কঠিন। এই টেস্টে সেই দুই খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হওয়া হবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
টেস্ট সিরিজের সম্ভাব্য শক্তি তুলনা
| বিষয় | বাংলাদেশ | পাকিস্তান |
|---|---|---|
| প্রধান পেসার | নাহিদ রানা | শাহিন আফ্রিদি |
| প্রধান স্পিনার | মেহেদি হাসান মিরাজ | সাজিদ খান |
| ব্যাটিং শক্তি | মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস | বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান |
| সিরিজের সুবিধা | ঘরের মাঠ | সাম্প্রতিক ফর্ম |
এই টেস্ট সিরিজে আপনি যদি সরাসরি ম্যাচ দেখতে এবং বেটিং করতে চান, তাহলে Jeta33-এ অ্যাকাউন্ট খুলুন। বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্টের লাইভ বেটিং সেখানে পাবেন। bKash এবং Nagad-এর মাধ্যমে সহজে ডিপোজিট করা যায়।
নাহিদ রানার সামনে কী অপেক্ষা করছে?
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ
হার্ডির মতো অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বলছেন, নাহিদ রানা সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াবেন। IPL, BBL, CPL-এর মতো বড় লিগগুলোতে তাঁর ডাক আসবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন পর্যন্ত বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তেমন সুযোগ পাননি। নাহিদ রানা সেই দরজা খুলছেন। এটা শুধু তাঁর জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটা বড় সুযোগ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে নাহিদ রানার গুরুত্ব
বাংলাদেশের ক্রিকেট এতদিন স্পিনারদের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজরা পেস আক্রমণের অভাব পুষিয়ে দিতেন। এখন নাহিদ রানার উত্থানে সেই চিত্র বদলাচ্ছে।
পেস এবং স্পিনের সমন্বয়ে বাংলাদেশ এখন আরও সম্পূর্ণ একটি দল। ঘরের মাঠে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারানোয় নাহিদ রানার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।
এই টেস্ট সিরিজে নাহিদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর রাখুন। Jeta33-এ ক্রিকেট গেমস বিভাগে লাইভ ম্যাচ বেটিং করতে পারেন এবং প্রতিদিন ডেইলি ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন।
পেশোয়ারের PSL শিরোপা জয়ের গল্প
পেশোয়ার জালমি ২০১৭ সালের পর প্রথমবার PSL চ্যাম্পিয়ন হলো। ৯ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।
এই জয়ের নেপথ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন। অ্যারন হার্ডির অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ফাইনালে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। আবদুল সামাদের ৩৪ বলে ৪৮ রান জয় নিশ্চিত করেছে। আর সবার আগে নাহিদ রানার বোলিং হায়দরাবাদের রান সীমিত করেছে।
PSL ফাইনালের স্কোরকার্ড সারসংক্ষেপ
হায়দরাবাদ কিংসমেন: ১২৯/১০ (১৮ ওভার)
| ব্যাটার | রান | বল |
|---|---|---|
| সাইম আইয়ুব | ৫৪ | ৫০ |
| গ্লেন ম্যাক্সওয়েল | ০ | ১ |
| মার্নাস লাবুশেন | – | – |
| বাকি | ৭৫ | – |
পেশোয়ার জালমি: ১৩০/৫ (১৫.২ ওভার)
| ব্যাটার | রান | বল |
|---|---|---|
| অ্যারন হার্ডি | ৫৬* | ৩৯ |
| আবদুল সামাদ | ৪৮ | ৩৪ |
| বাবর আজম | ০ | ১ |
মূল বোলিং পারফরম্যান্স:
| বোলার | ওভার | রান | উইকেট | ইকোনমি |
|---|---|---|---|---|
| নাহিদ রানা | ৪ | ২২ | ২ | ৫.৫০ |
| অ্যারন হার্ডি | ৪ | ৭ | ৪ | ১.৭৫ |
| সুফিয়ান মুকিম | ৪ | ২৭ | ২ | ৬.৭৫ |
নাহিদ রানার বোলিংয়ের বিশেষত্ব কী?
গতি, সুইং এবং ইয়র্কারের সমন্বয়
নাহিদ রানার বোলিংয়ের তিনটি প্রধান অস্ত্র আছে।
প্রথমত, গতি। ঘণ্টায় ১৪৫ থেকে ১৫১ কিলোমিটার গতিতে নিয়মিত বল করতে পারেন। এই গতি বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
দ্বিতীয়ত, ইয়র্কার। PSL ফাইনালে হুনাইন শাহকে মিডল স্ট্যাম্পে ইয়র্কার মেরে বোল্ড করেছেন। ডেথ ওভারে ইয়র্কার ডেলিভারি তাঁর বড় অস্ত্র।
তৃতীয়ত, শর্ট বল। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে বাধ্য করে আউট করেছেন। এই ডেলিভারি বড় ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করে।
ওয়াসিম আকরাম বলেছেন, নাহিদের অ্যাকশন সহজ কিন্তু কার্যকর। জটিল অ্যাকশনে ইনজুরির ঝুঁকি বেশি থাকে। নাহিদের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি কম।
নাহিদ রানা সম্পর্কে প্রায়ই জিজ্ঞেস করা প্রশ্ন (FAQ)
নাহিদ রানা PSL ২০২৬-এ কত উইকেট নিয়েছেন?
নাহিদ রানা PSL ২০২৬-এ পেশোয়ার জালমির হয়ে ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৫.৪৪, যা পুরো আসরে সবচেয়ে কম। ফাইনালে ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে পেশোয়ারকে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন করতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন।
নাহিদ রানার বোলিং গতি কত কিলোমিটার?
নাহিদ রানার সর্বোচ্চ নথিভুক্ত গতি ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার। PSL ফাইনালে তাঁর গড় গতি ছিল ১৪১.২ কিলোমিটার। প্রথম ডেলিভারি করেছেন ১৪৭.৪ কিলোমিটারে। এই ধারাবাহিক গতি ধারাভাষ্যকক্ষে ওয়াসিম আকরামকেও মুগ্ধ করেছে।
কেন বাবর আজম নাহিদ রানার মুখে পড়তে চান না?
PSL ফাইনালের পর অ্যারন হার্ডি প্রকাশ্যে বলেছেন, বাবর আজম নাহিদ রানার বোলিং মোকাবিলায় মোটেই আগ্রহী নন। করাচিতে ১৫১ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করার পর থেকে বিশ্বের শীর্ষ ব্যাটাররা নাহিদকে সামলানো কঠিন বলে মনে করছেন।
নাহিদ রানা কোথা থেকে এসেছেন?
নাহিদ রানা বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ছেলে। বর্তমানে বয়স ২৩ বছর। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে দ্রুত উঠে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি পেসার যিনি চ্যাম্পিয়ন দলের অংশ হয়েছেন।
৫৩ দিনে নাহিদ রানা মোট কত উইকেট নিয়েছেন?
৫৩ দিনে মোট ১১ ম্যাচ খেলে নাহিদ রানা প্রায় ২৫টি উইকেট নিয়েছেন। পাকিস্তান ওডিআই সিরিজে ৮, নিউজিল্যান্ড ওডিআই সিরিজে ৮ এবং PSL-এ ৯ উইকেট। দুই আন্তর্জাতিক সিরিজেই প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ পুরস্কার পেয়েছেন।
PSL ২০২৬-এ পেশোয়ার জালমি কীভাবে চ্যাম্পিয়ন হলো?
ফাইনালে পেশোয়ার জালমি হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে। নাহিদ রানার বোলিংয়ে হায়দরাবাদ ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে অলআউট হয়। রান তাড়ায় অ্যারন হার্ডির ৩৯ বলে ৫৬ রান এবং আবদুল সামাদের ৩৪ বলে ৪৮ রানে পেশোয়ার জেতে।
নাহিদ রানা বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়
নাহিদ রানার এই যাত্রা শুধু একটি PSL আসরের গল্প নয়। এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ছেলেটি ৫৩ দিনে তিনটি আসর মাতিয়েছেন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারাতে সাহায্য করেছেন। PSL ফাইনালে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এবার ৮ মে ঢাকায় টেস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামবেন।
ওয়াসিম আকরাম বলছেন ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। হার্ডি বলছেন সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াবেন। আর বাবর আজম জানেন তাঁকে সামলানো সহজ নয়।
এই টেস্ট সিরিজ মিস করবেন না। এবং যদি ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে চান, তাহলে Jeta33-এ এখনই রেজিস্ট্রেশন করুন। bKash এবং Nagad দিয়ে ডিপোজিট করুন, ৳২৮ নো-ডিপোজিট বোনাস পান এবং লাইভ ক্রিকেট বেটিংয়ে অংশ নিন।