
এমিলিয়ানো মার্তিনেস অবশেষে খুঁজে পেলেন তাঁর নতুন ঠিকানা। ছয় বছরের অ্যাস্টন ভিলা অধ্যায়ে ইতি টেনে আর্জেন্টিনার এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক যোগ দিয়েছেন চেলসিতে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি সেরে ফেলেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা।
আর্জেন্টিনা ভক্তদের কাছে ‘দিবু’ নামেই বেশি পরিচিত তিনি। কাতার বিশ্বকাপে তাঁর হাত ধরেই তো ঘুচেছিল ৩৬ বছরের অপেক্ষা। চলুন, এই বড় দলবদলের পুরো গল্পটা সহজ করে জেনে নিই।
এমিলিয়ানো মার্তিনেস চেলসিতে কেন গেলেন?
এমিলিয়ানো মার্তিনেস চেলসিতে গেছেন মূলত নিয়মিত খেলা আর নতুন চ্যালেঞ্জের টানে। গত দুই দলবদল মৌসুম ধরেই তিনি ভিলা ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছাই পূর্ণ হলো লন্ডনের ক্লাবে এসে।
ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেলসি তাঁকে দলে নিতে খরচ করেছে প্রায় ৭৫ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২৫ কোটি টাকার সমান। একজন ৩৩ বছর বয়সী গোলরক্ষকের জন্য এই অঙ্ক তাঁর মানেরই প্রমাণ।
চেলসিতে এসে উচ্ছ্বসিত মার্তিনেস। ক্লাব মাধ্যমকে তিনি জানান, পরিবারের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর কাছে সহজ ছিল। শুরু করার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
ভিলা ছাড়ার পেছনের গল্পটা কী?
ভিলা ছাড়ার পেছনে ছিল বেশ কিছু নাটকীয় মোড়। চলতি দলবদলের শুরুতে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাসে তাঁর যাওয়া প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি ভেস্তে যায়, আর গল্পটা নেয় নতুন বাঁক।
এদিকে ভিলা দলে ভিড়িয়ে ফেলে জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে। নতুন গোলরক্ষক আসায় প্রথম একাদশে মার্তিনেসের জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একজন বিশ্বসেরা গোলরক্ষকের জন্য বেঞ্চে বসে থাকাটা তো মানানসই নয়।
তাই লন্ডনের নীল জার্সিই বেছে নেন তিনি। আসিয়ানেট নিউজের তথ্য বলছে, এই গ্রীষ্মে ভিলা ছেড়েছেন আরও অনেক বড় নাম, তাই মার্তিনেসের বিদায় ক্লাবটির জন্য বড় এক ধাক্কা।
এমিলিয়ানো মার্তিনেস কে?
এমিলিয়ানো মার্তিনেস আর্জেন্টিনার একজন বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক, পুরো নাম দামিয়ান এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ভক্তরা তাঁকে আদর করে ‘দিবু’ ডাকেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের নেপথ্য নায়কদের একজন তিনি।
তাঁর ক্যারিয়ারের গল্পটাও কম রোমাঞ্চকর নয়। লন্ডনে তাঁর ফুটবল শুরু আর্সেনালের হয়ে। এরপর ২০২০ সালে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দিয়ে নিজেকে বিশ্বমানের গোলরক্ষকে পরিণত করেন।
গোলপোস্টের নিচে তাঁর সাহস, রিফ্লেক্স আর মানসিক দৃঢ়তা তাঁকে আলাদা করে তোলে। টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দেওয়ায় তিনি রীতিমতো ওস্তাদ।
দিবু মার্তিনেসের অর্জন কেমন?
দিবু মার্তিনেসের ট্রফি ক্যাবিনেট রীতিমতো ঈর্ষণীয়। আসিয়ানেট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি পরপর দুবার বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকের ‘ইয়াসিন ট্রফি’ জিতেছেন। এই স্বীকৃতিই বলে দেয় তাঁর মান কতটা উঁচুতে।
জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সাফল্যও চোখধাঁধানো। ২০২২ বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়েও তিনি ছিলেন দলের অভেদ্য প্রাচীর। নীল-সাদা জার্সিতে খেলেছেন ৬০টিরও বেশি ম্যাচ।
ক্লাব পর্যায়েও তাঁর অবদান বিশাল। গত মৌসুমে ভিলাকে ইউরোপা লিগ জিততে সাহায্য করেন এবং লিগে চতুর্থ হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট এনে দেন। ছয় মৌসুমে ভিলার হয়ে খেলেছেন প্রায় ২৫৬টি ম্যাচ।
এমিলিয়ানো মার্তিনেস এক নজরে
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পুরো নাম | দামিয়ান এমিলিয়ানো মার্তিনেস |
| ডাকনাম | দিবু |
| বয়স | ৩৩ বছর |
| দেশ | আর্জেন্টিনা |
| পজিশন | গোলরক্ষক |
| নতুন ক্লাব | চেলসি |
| চুক্তি | ৩ বছর |
| ট্রান্সফার ফি | প্রায় ৭৫ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১২৫ কোটি টাকা) |
চেলসির কেন একজন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক দরকার ছিল?
চেলসির গোলপোস্ট নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল দুশ্চিন্তা। বর্তমান গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের ধারাবাহিক ভুল আর অফ-ফর্ম ভাবিয়ে তুলেছিল টিম ম্যানেজমেন্টকে। ভরসা করার মতো একজন অভিজ্ঞ মুখের খোঁজেই ছিল তারা।
চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফুলহামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়েও সানচেজের পারফরম্যান্স নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে গোলপোস্টে স্থিতিশীলতা ফেরানোটাই ছিল চেলসির বড় লক্ষ্য।
আর সেই সমাধান হিসেবেই এলেন মার্তিনেস। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সানচেজকে সরিয়ে তাঁর প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
নতুন ক্লাবে মার্তিনেস কী বললেন?
নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, চেলসিতে তিনি সফল হতে এসেছেন। জীবনের প্রতিটি কাজেই জিততে চান তিনি, আর সেই মানসিকতাই বয়ে আনতে চান এই ক্লাবে।
তাঁর কথায় ফুটে ওঠে জয়ের ক্ষুধা। মার্তিনেস মনে করেন, চেলসি এমন একটি ক্লাব যারা নিয়মিত শিরোপা জেতে। তাই তাঁর জয়ের মানসিকতার সঙ্গে এই ক্লাবের দর্শন দারুণভাবে মিলে যায়।
সমর্থকদের উদ্দেশে দিয়েছেন বড় প্রতিশ্রুতিও। প্রতিটি ম্যাচ ও অনুশীলনে হৃদয় উজাড় করে খেলার কথা জানিয়ে বলেন, ক্লাব ও সতীর্থদের গর্বিত করতে তিনি শতভাগ উজাড় করে দেবেন।
এই দলবদল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই দলবদল শুধু একজন গোলরক্ষকের ক্লাব পরিবর্তন নয়, বরং দুই ক্লাবের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা। চেলসি পেল অভিজ্ঞতা আর জয়ের মানসিকতা, আর ভিলা হারাল তাদের নির্ভরযোগ্য এক প্রহরীকে।
আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্যও খবরটা বিশেষ। বাংলাদেশে দিবুর অসংখ্য অনুরাগী তাঁকে আবার প্রিমিয়ার লিগের বড় মঞ্চে দেখতে মুখিয়ে আছেন। বিশ্বকাপের সেই বীরত্ব তো এখনো টাটকা স্মৃতি।
আপনি যদি ফুটবলের এমন প্রতিটি বড় খবরের সঙ্গে থাকতে চান, তাহলে নিয়মিত খেলার আপডেট রাখুন। লাইভ ম্যাচের উত্তেজনার সঙ্গে থাকতে Jeta33 এর মতো প্ল্যাটফর্মেও ম্যাচের আপডেট মেলে।
মার্তিনেসের সামনে চ্যালেঞ্জ কী?
নতুন ক্লাবে মার্তিনেসের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রথম কাজ হবে দ্রুত দলের এক নম্বর গোলরক্ষকের জায়গা নিজের করে নেওয়া। অভিজ্ঞতা তাঁর পক্ষে থাকলেও প্রিমিয়ার লিগের চাপ সামলানো সহজ নয়।
নতুন সতীর্থ, নতুন কৌশল আর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগতে পারে। তবে বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে এগিয়ে রাখবে। বিশ্বকাপ ও কোপা জেতা একজন গোলরক্ষকের কাছে চাপ তো নতুন কিছু নয়।
সব মিলিয়ে সামনের মৌসুমটা হবে দেখার মতো। দিবু কি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজেও ভিলার মতোই ভরসার নাম হয়ে উঠবেন, উত্তর মিলবে মাঠেই।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
এমিলিয়ানো মার্তিনেস এখন কোন ক্লাবে খেলেন?
এমিলিয়ানো মার্তিনেস এখন ইংল্যান্ডের ক্লাব চেলসিতে খেলেন। ছয় বছরের অ্যাস্টন ভিলা অধ্যায় শেষে তিনি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন। চেলসির সঙ্গে তাঁর তিন বছরের চুক্তি হয়েছে। এই দলবদলে চেলসি খরচ করেছে প্রায় ৭৫ লাখ পাউন্ড।
এমিলিয়ানো মার্তিনেস কোন দেশের ফুটবলার?
এমিলিয়ানো মার্তিনেস আর্জেন্টিনার ফুটবলার। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৬০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন এই তারকা গোলরক্ষক। ভক্তরা তাঁকে ‘দিবু’ নামে চেনেন।
চেলসি মার্তিনেসকে কিনতে কত খরচ করেছে?
ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেলসি এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে দলে নিতে প্রায় ৭৫ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্ক প্রায় ১২৫ কোটি টাকার সমান। ৩৩ বছর বয়সী একজন গোলরক্ষকের জন্য এটি তাঁর মানেরই প্রতিফলন।
মার্তিনেস অ্যাস্টন ভিলা কেন ছাড়লেন?
মার্তিনেস মূলত নিয়মিত খেলার জন্য ভিলা ছেড়েছেন। ভিলা জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে দলে নেওয়ায় তাঁর জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আগে জুভেন্টাসে যাওয়ার চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত চেলসিতেই ঠিকানা খুঁজে পান এই আর্জেন্টাইন তারকা।
দিবু মার্তিনেস কী কী বড় শিরোপা জিতেছেন?
দিবু মার্তিনেস ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে। পরপর দুবার বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকের ‘ইয়াসিন ট্রফি’ও তাঁর দখলে। ক্লাব পর্যায়ে গত মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ জিততেও রেখেছেন বড় ভূমিকা।
চেলসিতে মার্তিনেস কি এক নম্বর গোলরক্ষক হবেন?
সম্ভাবনা প্রবল। বর্তমান গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের খারাপ ফর্মের কারণেই চেলসি অভিজ্ঞ মার্তিনেসকে দলে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সানচেজকে সরিয়ে মার্তিনেসের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
শেষ কথা
এমিলিয়ানো মার্তিনেসের চেলসি অধ্যায় শুরু হচ্ছে এক নতুন স্বপ্ন নিয়ে। বিশ্বকাপ আর কোপা জেতা এই গোলরক্ষক এবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের জয়ের ক্ষুধা মেটাতে চান। তাঁর অভিজ্ঞতা চেলসির গোলপোস্টে ফেরাতে পারে হারানো স্থিতিশীলতা।
সামনের মৌসুমটা তাই মার্তিনেস ও চেলসি, দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ভক্ত হিসেবে আমাদের কাজ তাঁর এই নতুন যাত্রা উপভোগ করা আর প্রতিটি ম্যাচে চোখ রাখা।
ফুটবলের এমন প্রতিটি বড় মুহূর্তের সঙ্গে থাকতে চাইলে নিয়মিত খেলার খবরে চোখ রাখুন। লাইভ ম্যাচের রোমাঞ্চ ও সর্বশেষ আপডেট পেতে আজই Jeta33 ঘুরে আসুন, আর খেলা উপভোগ করুন দায়িত্বশীলভাবে।
