
হামজা চৌধুরী নামটা শুনলেই আজকাল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীর বুকটা একটু গর্বে ভরে ওঠে। সেই প্রিয় তারকাকে ঘিরেই এখন জমে উঠেছে বড় এক জল্পনা। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি নাকি তাঁকে স্থায়ীভাবে দলে টানতে চায়, খবরটা দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।
ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হতে আর ক’দিন বাকি। তাই তাঁর পরের ঠিকানা কোথায় হবে, সেই প্রশ্নে এখন ভক্তদের ঘুম হারাম। চলুন, সাম্প্রতিক সব খবর এক জায়গায় সাজিয়ে দেখে নিই আসল গল্পটা কী।
হামজা চৌধুরীকে নিয়ে এখন ঠিক কী হচ্ছে?
হামজা চৌধুরীকে নিয়ে সবচেয়ে বড় খবরটা তাঁর সম্ভাব্য ক্লাব বদল। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ বলছে, ডার্বি কাউন্টি তাঁকে স্থায়ীভাবে সই করাতে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছে। তবে ভক্তদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জাগো নিউজের বরাতে জানা গেছে, লেস্টার সিটি এখন খেলছে লিগ ওয়ানে। আর দুঃখের কথা হলো, চলতি মৌসুমে হামজা একটা ম্যাচও শুরু করতে পারেননি। মাঠে নেমেছেন কেবল তিনবার, তা-ও বদলি হিসেবে।
শোনা যাচ্ছে, ক্লাবটি তাঁর মোটা বেতনের বোঝাটা কমাতে চাইছে। হাতে সময়ও কম, ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর। তাই বাংলাদেশি ভক্তরা এখন দিন গুনছেন, প্রিয় তারকার নতুন জার্সিটা কেমন হবে।
হামজা চৌধুরী কোন ক্লাবে খেলে?
এই মুহূর্তে হামজা চৌধুরী লেস্টার সিটির খেলোয়াড়। ক্লাবটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কিন্তু কালকের নয়। ২০১৭ সালে এই লেস্টারের জার্সিতেই তো প্রিমিয়ার লিগে তাঁর অভিষেক হয়েছিল, আর যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠাটাও এখানেই।
গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য তিনি লোনে চলে গিয়েছিলেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে। সেখানে চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, যেটা তাঁর ছন্দ ফিরে পেতে সাহায্য করে। এর আগে বার্টন অ্যালবিয়ন আর ওয়াটফোর্ডেও লোনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।
তবে ডার্বি কাউন্টির খবরটা সত্যি হলে “হামজা চৌধুরী কোন ক্লাবে খেলে”, এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুব শিগগিরই বদলে যাবে। শেষ কথাটা বলবে ট্রান্সফার উইন্ডোই।
হামজা চৌধুরী আসলে কোন দেশের ফুটবলার?
হামজা চৌধুরী একজন বাংলাদেশি ফুটবলার, যদিও তাঁর জন্ম আর বেড়ে ওঠা সাত সমুদ্র পারে, ইংল্যান্ডে। তাঁর শিকড় কিন্তু আমাদের সিলেটেই। মায়ের দিক থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় দেশের হয়ে খেলার দরজা তাঁর জন্য খুলে যায়।
২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাফুফে জানিয়ে দেয়, হামজা লাল-সবুজ জার্সিতে খেলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে যেন উৎসব শুরু হয়ে যায়। ভাবুন তো, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা একজন তারকা আমাদের হয়ে মাঠে নামবেন।
তার আগে তিনি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ৭টি ম্যাচও খেলেছিলেন। তবু হৃদয়ের টানে বেছে নিলেন বাংলাদেশকেই। এই একটা সিদ্ধান্তই আমাদের ফুটবলে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু।
হামজা চৌধুরীর জন্ম কোথায়?
হামজা দেওয়ান চৌধুরীর জন্ম ১৯৯৭ সালের ১ অক্টোবর, ইংল্যান্ডের লাফবোরো শহরে। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্যও তা-ই বলছে। ইংল্যান্ডের মাটিতেই কেটেছে তাঁর ছেলেবেলা, ফুটবলের প্রেমে পড়াও সেখানেই।
গল্পটা শুরু হয় একদম ছোট্ট বয়সে। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি লেস্টার সিটির যুব একাডেমিতে ভর্তি হন। এরপর নিজের শক্তিশালী ট্যাকলিং আর বল কেড়ে নেওয়ার দক্ষতা দিয়ে একটু একটু করে কোচদের মন জয় করে নেন।
ইংল্যান্ডে বড় হলেও দাদার ভিটে, শেকড়ের টান তাঁকে কখনো ছাড়েনি। সেই টানই তো শেষমেশ তাঁকে টেনে আনল আমাদের লাল-সবুজের উঠোনে।
হামজা চৌধুরীর প্রোফাইল এক নজরে
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পুরো নাম | হামজা দেওয়ান চৌধুরী |
| জন্ম | ১ অক্টোবর ১৯৯৭, লাফবোরো, ইংল্যান্ড |
| বয়স | ২৮ বছর |
| উচ্চতা | ১.৭৮ মিটার |
| পজিশন | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার |
| বর্তমান ক্লাব | লেস্টার সিটি |
| জাতীয় দল | বাংলাদেশ |
| জার্সি নাম্বার (বাংলাদেশ) | ৮ |
হামজা চৌধুরী জার্সি নাম্বার কত?
বাংলাদেশ জাতীয় দলে হামজা চৌধুরী গায়ে চাপান ৮ নম্বর জার্সি। মিডফিল্ডে খেলা একজন খেলোয়াড়ের জন্য এই নম্বরটার আলাদা একটা মানে আছে। চিরকালই তো ৮ নম্বর জার্সি সেই খেলোয়াড়ের গায়ে মানায়, যিনি একই সঙ্গে পরিশ্রমী আর সৃষ্টিশীল।
হামজার খেলাটাও ঠিক তেমন। এক মুহূর্তে তিনি প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিচ্ছেন, পরের মুহূর্তেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন দারুণ এক পাস। রক্ষণ আর আক্রমণের মাঝের এই সেতুবন্ধনটাই তাঁকে ৮ নম্বরের যোগ্য করে তুলেছে।
ক্লাব ফুটবলে অবশ্য তাঁর নম্বর ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের গ্যালারিতে ভক্তরা তাঁকে খোঁজেন ওই ৮ নম্বরেই।
হামজা চৌধুরী মার্কেট ভ্যালু কত?
হামজা চৌধুরীর মার্কেট ভ্যালু নিয়ে কথা বললে চোখ কপালে উঠতে পারে। ট্রান্সফারমার্কেটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় ভাঙলে অঙ্কটা দাঁড়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা, যা গোটা উপমহাদেশের ফুটবলে রীতিমতো বিরল।
তবে একটা মজার তথ্য দিই। ২০১৯ সালের শেষ দিকে তাঁর মূল্য ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো। এরপর নিয়মিত খেলার সুযোগ কমায় সংখ্যাটা একটু নেমে এসেছে। তবু আজও উপমহাদেশের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের একজন তিনি।
মনে রাখবেন, মার্কেট ভ্যালু কিন্তু জোয়ার-ভাটার মতো ওঠানামা করে। ফর্ম, ম্যাচের সংখ্যা আর বয়স, সবই এতে প্রভাব ফেলে। তাই সবচেয়ে সঠিক সংখ্যাটা সব সময় ট্রান্সফারমার্কেটে একবার দেখে নেওয়াই ভালো।
হামজা চৌধুরী মাসিক বেতন কত?
হামজা চৌধুরীর বেতনের হিসাব শুনলে অনেকের চোখ বড় হয়ে যায়। একাধিক প্রতিবেদন বলছে, লেস্টার সিটিতে তাঁর সাপ্তাহিক বেতন প্রায় ৫০ থেকে ৫৬ হাজার পাউন্ড। বছর শেষে অঙ্কটা গিয়ে দাঁড়ায় ২৬ থেকে ২৯ লাখ পাউন্ডে।
বাংলাদেশি টাকায় ভাবুন একবার। তাঁর এক সপ্তাহের আয় নাকি প্রায় ৮০ লাখ টাকার কাছাকাছি। আর সারা বছরে সেটা ৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে, তা-ও আবার কর কাটার আগে।
তবে এখানে একটা সততার কথা বলা দরকার। এই সংখ্যাগুলো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটের অনুমান মাত্র। ক্লাব বা খেলোয়াড় কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বেতন প্রকাশ করেন না। তাই এগুলোকে পাথরে খোদাই করা সত্য না ভেবে আনুমানিক হিসেব হিসেবেই নিন।
হামজা চৌধুরী বেতন কত বাংলাদেশ জাতীয় দলে?
এবার একটা প্রশ্নের উত্তর দিই, যেটা অনেকেই জানতে চান। বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার জন্য হামজা চৌধুরী কিন্তু আলাদা কোনো মোটা বেতন পান না। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলোয়াড়রা সাধারণত ম্যাচ ফি আর ভাতা পান, যা ক্লাবের বেতনের ধারেকাছেও নয়।
তাহলে তিনি দেশের হয়ে খেলেন কেন? উত্তরটা সহজ, ভালোবাসা। তাঁর বড় আয়ের উৎস তো ক্লাব ফুটবলই। জাতীয় দলে খেলা তাঁর কাছে টাকার হিসাব নয়, বরং শেকড়ের প্রতি এক গভীর টান।
সুখবর হলো, তাঁর আয়ের নতুন এক পথও খুলেছে। টেকনো বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ায় বিজ্ঞাপন থেকেও এখন আয় করবেন তিনি। সেই গল্পটা একটু পরেই বলছি।
হামজা চৌধুরী মোট গোল সংখ্যা কত?
হামজা চৌধুরীর গোলসংখ্যা দেখে অবাক হবেন না, কারণ গোল করাটা তাঁর মূল কাজই নয়। তিনি একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার। ট্রান্সফারমার্কেটের হালনাগাদ (ডিসেম্বর ২০২৫) বলছে, বাংলাদেশের হয়ে ৯ ম্যাচে তাঁর গোল ৪টি, যা জাতীয় দলের হিসেবে বেশ ভালো।
ক্লাব ক্যারিয়ারে গোলের খাতা তুলনায় হালকা। কারণ তাঁর কাজটা তো ভিন্ন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, বল কেড়ে নেওয়া আর দলটাকে একটা ভারসাম্যে বেঁধে রাখা, এই তো তাঁর আসল খেলা।
তাই তাঁকে গোলের হিসাবে মাপাটা ভুল হবে। মাঠে তাঁর যে অবদান, সেটা স্কোরবোর্ডে ধরা পড়ে না, কিন্তু জহুরির চোখে ঠিকই ধরা দেয়।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে হামজার পরিসংখ্যান
| সূচক | তথ্য (ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত) |
|---|---|
| ম্যাচ | ৯টি |
| গোল | ৪টি |
| অভিষেক | ২৫ মার্চ ২০২৫, ভারতের বিপক্ষে |
| জার্সি নাম্বার | ৮ |
| পজিশন | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার |
সেই অভিষেকের দিনটা মনে আছে?
বাংলাদেশের হয়ে হামজা চৌধুরীর অভিষেক হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ, ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে। সেদিন গোটা দেশ যেন টিভির সামনে জড়ো হয়েছিল। প্রবাসী এক তারকার লাল-সবুজ জার্সি পরা, এ যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার।
এরপরের ছবিটা আরও রঙিন। ২০২৫ সালের ১০ জুন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে তিনি প্রথমবার ঘরের মাঠে নামলেন। সেদিন ম্যাচের একটা টিকিট পাওয়া হয়ে উঠেছিল সোনার হরিণ। সাধারণ দর্শক থেকে সাবেক ফুটবলার, সবাই ছুটেছিলেন প্রিয় তারকাকে একটিবার দেখতে।
মাঠে নেমে হামজা ভক্তদের নিরাশ করেননি। তাঁর ছন্দময় খেলা, বল নিয়ন্ত্রণ আর আত্মবিশ্বাস দেখে গ্যালারি মুগ্ধ। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাঁর হাত ধরেই আমাদের ফুটবলে ফিরছে হারানো প্রাণ।
আসিয়ান কাপে হামজাকে দেখা যাবে তো?
দুশ্চিন্তা করবেন না, আসিয়ান কাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে নাম না থাকলেও হামজা চৌধুরীর সুযোগ কিন্তু ফুরিয়ে যায়নি। আরটিভির খবর অনুযায়ী, বাফুফে প্রবাসী কোনো ফুটবলারকেই প্রাথমিক তালিকায় রাখেনি। দরকার হলে তাঁরা পরে ক্যাম্পে যোগ দেবেন।
কোচ থমাস ডুলির অধীনে ২৮ জন ফুটবলার নিয়ে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হচ্ছে ২৭ আগস্ট। আর ফিফা আসিয়ান কাপের পর্দা উঠবে ২৪ সেপ্টেম্বর, ইন্দোনেশিয়ায়। অর্থাৎ, হামজার যোগ দেওয়ার সময় ও সুযোগ, দুটোই এখনো বেশ খোলা।
তবে অনেক কিছু নির্ভর করছে তাঁর ক্লাব পরিস্থিতির ওপর। ট্রান্সফারের ঝামেলাটা মিটে গেলে জাতীয় দলে তাঁর ফেরার পথটা আরও মসৃণ হয়ে যাবে।
টেকনোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কী বললেন হামজা?
মাঠের বাইরেও হামজা চৌধুরী এখন সমান আলোচিত। সম্প্রতি তিনি হয়েছেন টেকনো বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। ফুটবল আর প্রযুক্তিকে হাত ধরিয়ে তরুণদের কাছে নিয়ে যাওয়াই এই চুক্তির লক্ষ্য। টেকনো আবার ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’-এরও টাইটেল স্পন্সর।
এই উপলক্ষে হামজার কথাগুলো ছুঁয়ে গেছে অনেককে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তাঁর কাছে খুবই বিশেষ। এখানকার মানুষের ভালোবাসা আর সমর্থন তাঁকে অভিভূত করেছে। ভক্তদের জন্য সামনে দারুণ কিছু করার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
এই একটা চুক্তিই বুঝিয়ে দেয়, হামজা এখন কেবল ফুটবলার নন। বাংলাদেশের তরুণদের কাছে তিনি এক জ্বলজ্বলে আইকন, যাঁর ছায়া মাঠ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
কেন হামজা আমাদের ফুটবলের জন্য এত বড় পাওয়া?
সত্যি বলতে, হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য এক নতুন সকাল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ আর চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জাতীয় দলে যে মান যোগ করেছেন, তা আগে কল্পনাও করা যেত না। তাঁর উপস্থিতিই যেন গোটা দলের মেরুদণ্ড সোজা করে দেয়।
তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অনেক প্রবাসী ফুটবলার এখন দেশের হয়ে খেলতে চাইছেন। ফলে আমাদের ফুটবলের ভবিষ্যৎটাও হঠাৎ করে অনেক উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। তরুণরা তাঁর দিকে তাকিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শিখছে।
আপনিও যদি বাংলাদেশ ফুটবলের এমন প্রতিটি খবরের সঙ্গে থাকতে চান, তাহলে চোখ-কান খোলা রাখুন। লাইভ ম্যাচের রোমাঞ্চের সঙ্গে থাকতে Jeta33 এর মতো প্ল্যাটফর্মেও ম্যাচের আপডেট মেলে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
হামজা চৌধুরী কোন দেশের ফুটবলার?
হামজা চৌধুরী একজন বাংলাদেশি ফুটবলার, যাঁর জন্ম ইংল্যান্ডের লাফবোরোতে। তাঁর শিকড় সিলেটে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাফুফে তাঁকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনুমতি পাওয়ার কথা জানায়। এর আগে তিনি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলেছেন।
হামজা চৌধুরী কোন ক্লাবে খেলে?
হামজা চৌধুরী বর্তমানে লেস্টার সিটির খেলোয়াড়। তবে টেলিগ্রাফের খবর অনুযায়ী, ডার্বি কাউন্টি তাঁকে স্থায়ীভাবে সই করাতে চায়। গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি লোনে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছিলেন। ১ সেপ্টেম্বর ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধের আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে।
হামজা চৌধুরী জার্সি নাম্বার কত?
হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয় দলে ৮ নম্বর জার্সি পরে খেলেন। মিডফিল্ডে খেলা একজন খেলোয়াড়ের জন্য এই নম্বর বেশ মানানসই। রক্ষণ সামলানো ও আক্রমণ গড়ার দ্বৈত ভূমিকা তাঁর খেলার সঙ্গে ৮ নম্বর জার্সিকে যুক্ত করেছে।
হামজা চৌধুরী মার্কেট ভ্যালু কত?
ট্রান্সফারমার্কেটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামজা চৌধুরীর মার্কেট ভ্যালু প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে তাঁর মূল্য ছিল সর্বোচ্চ, প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো। মার্কেট ভ্যালু নিয়মিত বদলায়।
হামজা চৌধুরীর জন্ম কোথায়?
হামজা দেওয়ান চৌধুরীর জন্ম ১৯৯৭ সালের ১ অক্টোবর, ইংল্যান্ডের লাফবোরো শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ইংল্যান্ডে বড় হয়েছেন। মাত্র সাত বছর বয়সে লেস্টার সিটির যুব একাডেমিতে যোগ দিয়ে ফুটবল যাত্রা শুরু করেন। তাঁর পরিবারের শিকড় বাংলাদেশের সিলেটে।
হামজা চৌধুরী মোট গোল সংখ্যা কত?
ট্রান্সফারমার্কেটের হালনাগাদ (ডিসেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী, বাংলাদেশের হয়ে ৯ ম্যাচে হামজা চৌধুরীর গোল ৪টি। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হওয়ায় ক্লাবে তাঁর গোল কম। তাঁর মূল কাজ প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো ও দলকে ভারসাম্য দেওয়া, গোল করা নয়।
হামজা চৌধুরী মাসিক বেতন কত?
বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য মেলে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেস্টারে তাঁর সাপ্তাহিক বেতন প্রায় ৫০ থেকে ৫৬ হাজার পাউন্ড, বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৮০ লাখ টাকার কাছাকাছি। তবে এগুলো তৃতীয় পক্ষের অনুমান, আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য নয়।
শেষ কথা
হামজা চৌধুরী এখন শুধু একটা নাম নয়, বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন এক স্বপ্নের ঠিকানা। লেস্টার থেকে সম্ভাব্য ডার্বি কাউন্টি, জাতীয় দলের ৮ নম্বর জার্সি কিংবা টেকনোর ব্র্যান্ড চুক্তি, প্রতিটি খবরই বলে দেয় তাঁর ছায়া কতটা দীর্ঘ।
ট্রান্সফার উইন্ডো আর আসিয়ান কাপকে ঘিরে সামনের দিনগুলো তাঁর জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। ভক্ত হিসেবে আমাদের কাজটা সহজ, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের পাশে থাকা আর প্রতিটি খবরে চোখ রাখা।
বাংলাদেশ ফুটবল আর বিশ্ব ফুটবলের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে থাকতে চাইলে নিয়মিত খেলার খবরে চোখ রাখুন। লাইভ ম্যাচের উত্তেজনা আর সর্বশেষ আপডেট পেতে আজই Jeta33 ঘুরে আসুন, আর খেলা উপভোগ করুন দায়িত্বশীলভাবে।
