
ক্রিস কোলম্যান বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, ১৫ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে নতুন কোচের নাম চূড়ান্ত হবে। ওয়েলসকে ইউরো ২০১৬ সেমিফাইনালে নেওয়া এই ব্রিটিশ কোচকে নিয়ে এখন সারা দেশে চাপা উত্তেজনা।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের পরের কোচ আসলে কে হচ্ছেন? আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে একটাই নাম। ক্রিস কোলম্যান।
ব্রাজিলের রোজারিও মিকেল ফসকে যাওয়ার পর বাফুফের সামনে এখন সীমিত বিকল্প। সূত্র বলছে, ব্রিটিশ এই কোচকেই বেছে নিতে চলেছে ফেডারেশন। যদিও শেষ ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কে এই ক্রিস কোলম্যান? পরিচয় এক নজরে
ক্রিস কোলম্যানের পুরো নাম ক্রিস্টোফার প্যাট্রিক কোলম্যান। জন্ম ১০ জুন ১৯৭০ সালে, ওয়েলসের সোয়ানসিতে। বয়স ৫৫ পেরিয়েছে গত জুনে। উয়েফা প্রো লাইসেন্স তার ঝুলিতে অনেক আগেই উঠেছে।
খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ছিলেন কঠিন এক ডিফেন্ডার। ম্যানচেস্টার সিটি দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আলো ছড়িয়েছেন সোয়ানসি, ক্রিস্টাল প্যালেস, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স এবং ফুলহ্যামের জার্সিতে। প্রিমিয়ার লিগে তার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার।
কিন্তু ভাগ্য তাকে বেশিদিন মাঠে রাখেনি। ২০০১ সালের জানুয়ারিতে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় পা ভাঙে তার। ৩২ বছর বয়সেই খেলোয়াড়ি জীবনের পর্দা নামাতে হয়। সেই দুঃসময় থেকে শুরু হয় তার দ্বিতীয় ইনিংস। কোচিংয়ের জগৎ।
ক্রিস কোলম্যানের ব্যক্তিগত তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | ক্রিস্টোফার প্যাট্রিক কোলম্যান |
| জন্ম | ১০ জুন ১৯৭০, সোয়ানসি, ওয়েলস |
| বর্তমান বয়স | ৫৫ বছর |
| খেলোয়াড়ি পজিশন | ডিফেন্ডার |
| ওয়েলসের হয়ে ম্যাচ | ৩২টি |
| কোচিং লাইসেন্স | উয়েফা প্রো |
| সম্মাননা | OBE (২০১৭) |
ক্রিস কোলম্যানের নাম বাফুফের টেবিলে কেন এলো?
হ্যাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের কোচ খোঁজা শুরু হয় বেশ ঘটা করে। প্রথমে আলোচনায় ছিল ব্রাজিলিয়ান রোজারিও মিকেলের নাম। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে নেইমারদের সোনা জেতানো এই কোচকে নিয়ে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে বাফুফের দেরি হওয়ায় মিকেল নিজেই সরে দাঁড়ান। ব্রাজিলের অ-গ্লোবোসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৮ মে তিনি ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব লন্ড্রিনা ইসিতে যোগ দিয়েছেন। মিকেল চেয়েছিলেন মাসিক ৩০ হাজার ডলার বেতন।
মিকেল ফসকে যাওয়ার পর কোলম্যানের দিকে সবার নজর। বাফুফের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য, কোলম্যান এবং জার্মান কোচ বার্নড স্টর্কের মধ্যে একজনের সম্ভাবনাই বেশি। তবে অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের নিরিখে কোলম্যানই এগিয়ে।
বাফুফের পছন্দের কারণগুলো
- ইউরো ২০১৬ সেমিফাইনাল খেলানোর অভিজ্ঞতা
- ব্রিটিশ লিগে দীর্ঘ কাজের পরিচিতি
- প্রবাসী খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার দক্ষতা
- ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিনে পারদর্শিতা
- হামজা-শমিত-ফাহমিদুলদের সাথে সংস্কৃতিগত মিল
- আন্ডারডগ দলকে বড় মঞ্চে নেওয়ার সুনাম
👉 ফুটবল প্রেডিকশন গেমের জন্য Jeta33
ইউরো ২০১৬ এর সেই ঐতিহাসিক যাত্রা
ক্রিস কোলম্যানের নাম শুনলেই সবার আগে মনে আসে ইউরো ২০১৬ এর কথা। ৫৮ বছর পর ওয়েলসকে কোনো বড় টুর্নামেন্টে নিয়েছিলেন তিনি। সেটাও যেনতেনভাবে নয়, একদম সরাসরি সেমিফাইনালে।
গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের সঙ্গে একই গ্রুপে থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের ধাপে উঠেছিল ওয়েলস। রাশিয়াকে ৩-০ গোলে হারানো সেই দলটির খেলায় কোলম্যানের ছাপ ছিল স্পষ্ট। গ্যারেথ বেল, অ্যারন রামসেদের ঘিরে তিনি বানিয়েছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য দল।
নকআউট পর্বে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করার পর সবচেয়ে চমকপ্রদ ম্যাচটি আসে কোয়ার্টার ফাইনালে। বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়। সেই দলে ছিলেন এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনে, রোমেলু লুকাকু। কোলম্যানের কৌশলের সামনে তারাও হার মেনেছিলেন।
ইউরোতে ওয়েলসের পারফরম্যান্স
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | ফলাফল |
|---|---|---|
| গ্রুপ ম্যাচ ১ | স্লোভাকিয়া | ২-১ জয় |
| গ্রুপ ম্যাচ ২ | ইংল্যান্ড | ১-২ পরাজয় |
| গ্রুপ ম্যাচ ৩ | রাশিয়া | ৩-০ জয় |
| শেষ ১৬ | নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড | ১-০ জয় |
| কোয়ার্টার ফাইনাল | বেলজিয়াম | ৩-১ জয় |
| সেমিফাইনাল | পর্তুগাল | ০-২ পরাজয় |
অক্টোবর ২০১৫ সালে কোলম্যানের অধীনে ওয়েলস ফিফা র্যাংকিংয়ে অষ্টম স্থানে উঠেছিল। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ অবস্থান। সেই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে OBE খেতাব দেয়।
কোলম্যানের পুরো কোচিং ক্যারিয়ার
কোচিংয়ে তার যাত্রা শুরু ফুলহ্যামে, ২০০৩ সালে। জিন তিগানার সহকারী ছিলেন প্রথমে। যখন তিগানা চাকরি হারান, তখন অস্থায়ী দায়িত্ব নিয়ে ফুলহ্যামকে অবনমনের হাত থেকে বাঁচান কোলম্যান। সেই পারফরম্যান্স দেখেই তাকে স্থায়ী কোচ বানানো হয়।
প্রথম পূর্ণ মৌসুমে ২০০৩-০৪ প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামকে নবম স্থানে শেষ করেন তিনি। সেটাই ছিল তার বড় কোচিং পরিচিতির শুরু। এরপর স্পেনের রিয়াল সোসিয়েদাদে গিয়েছিলেন, কিন্তু নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে ২০০৮ সালেই সরে আসেন।
কভেন্ট্রি সিটি এবং গ্রিক ক্লাব এইএলে কাজ করার পর তার জীবনে আসে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। ২০১১ সালে ওয়েলস কোচ গ্যারি স্পিড আত্মহত্যা করেন। শোকগ্রস্ত সেই দলের দায়িত্ব নেন কোলম্যান। প্রথম দিকে চাপে ভেঙে পড়েছিলেন, পরে গড়ে তোলেন “টুগেদার স্ট্রংগার” দর্শন।
কোলম্যানের কোচিং পরিসংখ্যান
| বছর | দল | অর্জন |
|---|---|---|
| ২০০৩-২০০৭ | ফুলহ্যাম | প্রিমিয়ার লিগে ৯ম স্থান |
| ২০০৭-২০০৮ | রিয়াল সোসিয়েদাদ | লা লিগায় কোচিং |
| ২০০৮-২০১০ | কভেন্ট্রি সিটি | চ্যাম্পিয়নশিপে কাজ |
| ২০১১-২০১২ | এইএল লারিসা | গ্রিক সুপার লিগ |
| ২০১২-২০১৭ | ওয়েলস | ইউরো ২০১৬ সেমিফাইনাল |
| ২০১৭-২০১৮ | সান্ডারল্যান্ড | চ্যাম্পিয়নশিপে কাজ |
| ২০১৮-২০১৯ | হেবেই চায়না ফরচুন | চাইনিজ সুপার লিগ |
| ২০২৪-২০২৫ | ওএইচ লুভেন | বেলজিয়ান প্রো লিগ |
| ২০২৫-চলমান | আস্তেরাস ত্রিপোলিস | গ্রিক সুপার লিগ |
বাংলাদেশে যদি আসেন, এই তালিকায় যোগ হবে আরও একটি নাম। সেক্ষেত্রে এটি হবে কোলম্যানের দ্বিতীয় জাতীয় দল কোচিং।
👉 Jeta33-এ স্পোর্টস বেটিং বোনাস
হামজা-শমিতদের সঙ্গে কেমন রসায়ন তৈরি হবে?
বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন ভরসা হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম। এদের সবার বেড়ে ওঠা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্কৃতিতে। কোলম্যানের সাথে এই সংস্কৃতির সরাসরি মিল আছে।
হামজা চৌধুরী খেলেছেন লেস্টার সিটি, ওয়াটফোর্ড এবং শেফিল্ড ইউনাইটেডে। শমিত সোম কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিয়মিত মুখ। ফাহমিদুল ইসলাম খেলছেন ইতালির ভেনিস ফুটবল ক্লাবের যুব দলে। এদের সবাইকে সামলাতে দরকার একজন ইউরোপীয় ফুটবল-বোঝা কোচ।
ব্রিটিশ পরিবেশ থেকে আসা প্রবাসী খেলোয়াড়দের গড়ে তুলতে কোলম্যানের চেয়ে ভালো বিকল্প খুব কম। তার ফুলহ্যাম যোগাযোগের কথা আলাদাভাবে বলা দরকার। সেই ক্লাবেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান, রায়ানের মতো তরুণরা যুব একাডেমিতে আছেন।
সম্ভাব্য একাদশের আভাস
কোলম্যানের পছন্দের ৩-৫-২ ফর্মেশনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ হতে পারে এমন:
- গোলরক্ষক: মিতুল মারমা
- রক্ষণভাগ: তপু বর্মণ, তারিক কাজী, বিশ্বনাথ ঘোষ
- উইং ব্যাক: রহমত মিয়া, ইসা ফয়সাল
- মাঝমাঠ: হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া
- আক্রমণভাগ: রাকিব হোসেন, ফাহমিদুল ইসলাম
প্রবাসী মাঝমাঠ ভিত তৈরি করবে। ঘরোয়া ফুটবলাররা পাশে থেকে সহায়ক ভূমিকা নেবেন। ৪-৩-৩ ছকেও দল সাজানো যেতে পারে।
কিট সিমন্স কি কোলম্যানের সঙ্গে আসছেন?
ক্রিস কোলম্যানের সঙ্গে আরেকটি নাম শোনা যাচ্ছে। কিট সিমন্স। কোলম্যান নিজে চান এই সাবেক ম্যানসিটি ও ফুলহ্যাম তারকাকে সহকারী হিসেবে। সিমন্স ও কোলম্যানের সম্পর্ক বহু বছরের পুরনো।
দুজনই ওয়েলস ফুটবল সংস্কৃতির গভীরে জড়িত। সিমন্সের জন্ম ইংল্যান্ডে হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ম্যানচেস্টার সিটি, ফুলহ্যাম, ক্রিস্টাল প্যালেস, কোলচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে দ্রুতই কোচিংয়ে নাম তুলেছিলেন তিনি। ফুলহ্যামে এক সময় হেড কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন। বেলের ওয়েলসেও কোলম্যানের সহকারী ছিলেন। বাফুফে যদি দুজনকেই আনতে চায়, ডাগআউটে এক হাইপ্রোফাইল জুটি দেখা যাবে।
কত টাকায় আসছেন? বেতন নিয়ে যা শোনা যাচ্ছে
বাফুফের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ক্রিস কোলম্যানের জন্য বাৎসরিক বাজেট প্রায় ৯ কোটি বাংলাদেশি টাকা। মাসিক হিসাবে এটি দাঁড়ায় ৭৫ হাজার মার্কিন ডলারের আশেপাশে। বাংলাদেশি টাকায় মাসে প্রায় ৮৮ লাখ ৮৮ হাজার।
এই অঙ্ক বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা পেতেন মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার। জেমি ডে’র যুগে সেই অঙ্ক ছিল আরও কম। এবার ফেডারেশন সেই হিসাব ভেঙে নতুন বার্তা দিতে চাইছে।
মিকেল ফসকে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বাফুফে এবার সতর্ক। চড়ামূল্য দিলেও বড় নাম আনতে চাইছে তারা। কোলম্যানের সঙ্গে সিমন্স এলে আরও কিছু খরচ বাড়বে। সবকিছু নির্ভর করছে শেষ আলোচনার ওপর।
বেতন তুলনা: বাংলাদেশের সাবেক কোচদের সঙ্গে
| কোচ | দায়িত্বকাল | মাসিক বেতন (USD) |
|---|---|---|
| জেমি ডে | ২০১৮-২০২১ | ৮ হাজার |
| হ্যাভিয়ের কাবরেরা | ২০২২-২০২৬ | ১৫ হাজার |
| রোজারিও মিকেল (প্রস্তাব) | ২০২৬ | ৩০ হাজার |
| ক্রিস কোলম্যান (সম্ভাব্য) | ২০২৬-? | ৭৫ হাজার |
👉 Jeta33-এর VIP রিওয়ার্ডে ১০ লাখ পর্যন্ত
শুধু কোলম্যান নন, অন্য কারা দৌড়ে ছিলেন?
কোলম্যানের পাশাপাশি আরও কিছু নাম ভেসে এসেছিল বিভিন্ন সময়ে। জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক খেলোয়াড়। হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
ব্রাজিলিয়ান রোজারিও মিকেলের নাম শুরু থেকে ছিল সবার উপরে। ২০১৬ অলিম্পিকে ব্রাজিলকে স্বর্ণ জেতানো এই কোচ তরুণদের নিয়ে কাজে দক্ষ। কিন্তু বাফুফের দেরির কারণে তিনি আর অপেক্ষা করেননি।
স্কটিশ কোচ পল ভার্নসও আলোচনায় ছিলেন। পর্তুগিজ এক কোচের নামও শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ দৌড়ে এসে কোলম্যান এবং স্টর্কের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুজনের মধ্যে কোলম্যানের পাল্লা ভারী, এটাই সাধারণ মত।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তুলনা
| বৈশিষ্ট্য | ক্রিস কোলম্যান | বার্নড স্টর্ক |
|---|---|---|
| জাতীয় দল অভিজ্ঞতা | ওয়েলস (৫ বছর) | হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান |
| বড় টুর্নামেন্ট সাফল্য | ইউরো ২০১৬ সেমিফাইনাল | নেই |
| ব্রিটিশ লিগ অভিজ্ঞতা | বহু বছরের | নেই |
| বয়স | ৫৫ | ৬৩ |
| প্রবাসী ম্যানেজমেন্ট | শক্তিশালী | মাঝারি |
| বর্তমান ক্লাব | আস্তেরাস ত্রিপোলিস | মুক্ত |
আসলে কী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে কোলম্যানের জন্য?
বাংলাদেশের কোচিং চাকরি সহজ নয়। কোলম্যান এলে তার সামনে অনেকগুলো বাস্তব সমস্যা থাকবে। প্রথমেই আবহাওয়া। জুন থেকে অক্টোবরের গরম ও আর্দ্রতা ইউরোপীয় কোচদের জন্য একদম নতুন অভিজ্ঞতা।
দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ অবকাঠামো। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, কিংস অ্যারিনা ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের মাঠ কম। অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধাও সীমিত। ফিটনেস ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি দরকার।
তৃতীয় বিষয় ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যবধান। স্থানীয় খেলোয়াড়দের সাথে কোলম্যানের যোগাযোগে অনুবাদক লাগবে। চতুর্থ চ্যালেঞ্জ প্রশাসনিক জটিলতা। বাফুফের সিদ্ধান্তে দেরি, পরিকল্পনার অভাব এসব নিয়ে কাজ করতে হবে।
সম্ভাব্য সমাধান যা সাহায্য করতে পারে
- সিনিয়র অনুবাদক নিয়োগ
- ইউরোপীয় ফিটনেস কোচ আনা
- দীর্ঘমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা
- ঘরোয়া লিগ ক্যালেন্ডার ঠিক করা
- যুব দল ও জাতীয় দলের সমন্বয়
- বাফুফের পেশাদারিত্ব বাড়ানো
কোলম্যান এলে বাংলাদেশের ফুটবলে কী বদলাবে?
ক্রিস কোলম্যান বাংলাদেশের কোচ হলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে অনেক দিকে। বিশেষ করে দলের ট্যাকটিক্যাল গঠন, প্রবাসী খেলোয়াড়দের আগ্রহ, এবং দেশের ফুটবল প্রশাসনিক পেশাদারিত্ব এই তিন জায়গায় বড় পরিবর্তন আশা করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের বর্তমান ফিফা র্যাংকিং ১৮৩ এর কাছাকাছি। কোলম্যানের কোচিং দর্শন ও পরিকল্পনায় আগামী দুই বছরে এই অবস্থান ১৫০ এর মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব। ওয়েলসেও তিনি প্রথম বছরে ভালো করতে পারেননি, দ্বিতীয় চুক্তিতে ফল এসেছিল।
প্রবাসী খেলোয়াড়দের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে কোলম্যানের নাম এক বড় চুম্বক হবে। ইংল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালিতে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণরা জাতীয় দলে ডাক পেতে আগ্রহী হবেন।
👉 Jeta33-এ ২,০০০ টাকা ডেইলি ক্যাশব্যাক
এশিয়ান কাপ ও সাফে কোলম্যানের প্রভাব
বাংলাদেশের সামনে এখন এশিয়ান কাপ ২০২৭ এর বাছাইপর্ব। ভারত, হংকং, সিঙ্গাপুরের মতো দলের সঙ্গে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। কোলম্যানের ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান এই পর্যায়ে কাজে দেবে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ এ বাংলাদেশের লক্ষ্য শিরোপা। ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ এই অঞ্চলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। কোলম্যানের ইউরোপীয় ফুটবল দর্শন এই ম্যাচগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
লম্বা মেয়াদে বিশ্বকাপ ২০৩০ এর বাছাইপর্বেও তার ভূমিকা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বাফুফের চুক্তি শুরুতে এক-দুই বছরের জন্য হবে, পারফরম্যান্স ভালো হলে মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা কেমন?
হামজা চৌধুরী জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন প্রাণ এসেছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি আবার ভরতে শুরু করেছে। দর্শকের আগ্রহ আকাশছোঁয়া। সেই আগ্রহের সঙ্গে যদি কোলম্যানের মতো বড় কোচ যোগ হন, তাহলে ফুটবল উন্মাদনা নতুন উচ্চতায় উঠবে।
সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনা তুঙ্গে। ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রামে কোলম্যানের নাম ট্রেন্ডিং। তরুণরা চাইছেন একজন বিশ্বমানের কোচ, যিনি বাংলাদেশের ফুটবলকে এশিয়ার মানচিত্রে দৃশ্যমান করবেন।
স্পন্সরদের দিক থেকেও ইতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। বড় কোচ থাকলে ব্র্যান্ডের আগ্রহ বাড়ে। সম্প্রচার অধিকারের দাম উঠতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে বাফুফের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত হয়।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল কী বলছেন?
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গণমাধ্যমকে বলেছেন, “না, আজকে (রোববার, ১০ মে) কোচের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ১৫ মে পর্যন্ত আলোচনা চলবে। এরপর সবকিছু ঠিক হবে।”
বাফুফের এই বার্তায় স্পষ্ট, ১৫ মে এর আগে আনুষ্ঠানিক কিছু আসবে না। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের আভাস কোলম্যানের দিকেই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর্থিক চুক্তি, সহকারী কোচের বিষয়, এসব নিয়ে শেষ আলোচনা চলছে।
জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও মতামত নেওয়া হচ্ছে। কোলম্যান নিজে বাংলাদেশের প্রস্তাব নিয়ে কী ভাবছেন, সেটাও বড় বিষয়। তার বর্তমান ক্লাব আস্তেরাস ত্রিপোলিসের সাথে চুক্তি ২০২৫-২৬ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।
H2: ক্রিস কোলম্যান সম্পর্কে FAQ
ক্রিস কোলম্যান কি বাংলাদেশের নতুন কোচ হচ্ছেন?
ক্রিস কোলম্যান বাংলাদেশের নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, ১৫ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। এর আগ পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ফেডারেশন।
ক্রিস কোলম্যানের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটি?
ক্রিস কোলম্যানের সবচেয়ে বড় সাফল্য ইউরো ২০১৬ এ ওয়েলসকে সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া। ৫৮ বছর পর কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলেছিল ওয়েলস। সেই বছর ফিফা র্যাংকিংয়ে দলটি অষ্টম স্থানে উঠেছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থান।
বাফুফে কোলম্যানকে কত টাকা দিতে চাইছে?
সূত্র অনুযায়ী, বাফুফে কোলম্যানের জন্য বার্ষিক প্রায় ৯ কোটি বাংলাদেশি টাকা বরাদ্দ রাখছে। মাসিক হিসাবে এটি প্রায় ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার বা ৮৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এই অঙ্ক বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে কোনো কোচের সর্বোচ্চ বেতন হবে।
কিট সিমন্স কে এবং তার ভূমিকা কী হবে?
কিট সিমন্স একজন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ও ফুলহ্যাম খেলোয়াড়। ওয়েলস জাতীয় দলেও খেলেছেন তিনি। ক্লাব কোচিংয়ে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে তার। কোলম্যান তাকে নিজের সহকারী হিসেবে চাইছেন বাংলাদেশে। এতে ডাগআউটে দুই হাইপ্রোফাইল নাম থাকবে।
কোলম্যান আসলে হামজাদের অবস্থান কি বদলাবে?
কোলম্যান আসলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। হামজা চৌধুরী মাঝমাঠে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পাবেন। শমিত সোমকে নিয়ে নতুন রসায়ন তৈরি হতে পারে। ব্রিটিশ ফুটবল সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা প্রবাসীরা কোলম্যানের অধীনে আরও সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন।
রোজারিও মিকেল কেন সরে গেলেন?
রোজারিও মিকেল মূলত বাফুফের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দীর্ঘ বিলম্বের কারণে সরে গেছেন। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ৮ মে ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব লন্ড্রিনা ইসিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন মাসিক ৩০ হাজার ডলার বেতন।
কোলম্যান কখন প্রথম দায়িত্ব নেবেন?
কোলম্যান যদি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, তাহলে প্রথম দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা জুন ২০২৬ এর ফিফা উইন্ডোতে। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো হবে তার প্রথম পরীক্ষা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ এর জন্যও তিনি দল প্রস্তুত করবেন। তার বর্তমান ক্লাবের চুক্তি কীভাবে সামলানো হয়, সেটাও দেখার বিষয়।
অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ
ক্রিস কোলম্যান বাংলাদেশের কোচ হবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর আর কিছুদিনের মধ্যেই মিলবে। ১৫ মে এর ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। ওয়েলসকে যিনি ইতিহাসের পাতায় তুলেছিলেন, তিনি যদি বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন, তাহলে আমাদের ফুটবলে নতুন একটি যুগের সূচনা হতে পারে।
হামজা, শমিত, ফাহমিদুলদের মতো প্রবাসী খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যে দেশের ফুটবলে নতুন স্বপ্ন এনেছেন। কোলম্যানের মতো অভিজ্ঞ কোচ যোগ দিলে সেই স্বপ্ন আরও বাস্তব হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটা সময়ই বলে দেবে। বাফুফের সিদ্ধান্তে চোখ রাখুন।